‘রবিনসন ক্রুসো’ ড্যানিয়েল ডিফোর উপন্যাস। ১৭১৯ সালে উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি রবিনসন ক্রুসো নামে ব্যক্তির কাল্পনিক আত্মজীবনী আকারে রচিত। তিনি ইংল্যান্ডের অধিবাসী ছিলেন। ১৬৫১ সাে লর আগস্ট মাসে হালের কুইন্স ডক থেকে সমুদ্র যাত্রা শুরু করেন।
এক দিন ঝড়ের কবলে পড়ে তার জাহাজ ধ্বংস হয়। তিনি ভেনেজুয়েলার কাছে একটি নির্জন বিষুবীয় দ্বীপে ২৮ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় অতিবাহিত করেন। এই সময় আমেরিকার উপজাতি, বন্দি ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়।
পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ঔপন্যাসিক সম্ভবত ‘আলেকজান্ডার সেলকার্ক’ নামে এক স্কটিশ ব্যক্তির জীবনের বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে উপন্যাসটি লিখেছিলেন। সেলকার্ক চিলির ‘ম্যাস আ টিয়েরা’ নামে একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে চার বছর অবস্থান করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে দ্বীপটির নাম বদলে ‘রবিনসন ক্রুসো দ্বীপ’ রাখা হয়।
যদিও ক্রুসোর দ্বীপটির বিবরণ ক্যারিবিয়ান টোবাগো দ্বীপের বর্ণনা অনুযায়ী লেখা। কারণ দ্বীপটি ওরিনোকো নদীর মোহনার কাছে ভেনেজুয়েলান উপকূলের কিছুটা উত্তরে এবং ত্রিনিদাদ দ্বীপের কাছে অবস্থিত। এও মনে করা হয়, ডিফো ইবন ইয়ুফাইল রচিত ‘হ্যায় ইবন ইয়াকধান’ নামক উপন্যাসটির ইংরেজি ও লাতিন অনুবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। উপন্যাসটি একটি নির্জন দ্বীপের পটভূমিকায় লেখা হয়েছিল।
টিম সেভেরিন তার ২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘ইন সার্চ অব রবিনসন ক্রুসো’ বইতে বিতর্ক করে বলেন, হেনরি পিটম্যান তার ঘটনাপঞ্জির ছোট বইতে ক্যারিবিয়ান বন্দি শিবির থেকে তার পলায়ন এবং পরবর্তী জাহাজ ডুবি ও নির্জন দ্বীপের দুর্ঘটনার যে বর্ণনা দেন, তাই এই গল্পের অনুপ্রেরণা।
আর্থার ওয়েলেসলি সেকর্ড তার ‘স্টাডিজ ইন দ্য ন্যারেটিভ মেথড অব ডিফো’তে যত্নশীলভাবে রবিনসন ক্রুসো রচনার একটি সম্ভাব্য উৎসের তালিকা প্রদান করেন। যাতে তিনি সেলকার্ক যে ডিফোর একমাত্র উৎস, এই পরিচিত তত্ত্ব অস্বীকার করেন।
সাধারণ বর্ণনাশৈলী থাকা সত্ত্বেও রবিনসন ক্রুসো সাহিত্য জগতে সমাদৃত হয় এবং সাহিত্য ধারায় এটিকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ১৭১৯ সাল শেষ হওয়ার আগেই বইটির চারটি সংস্করণ শেষ হয়। এটি ইতিহাসে বহুল প্রকাশিত বইয়ের একটি। এই বইয়ের কাহিনি উপজীব্য করে অসংখ্য মঞ্চ, চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন নাটক নির্মাণ করা হয়। তবে বইটি সব বয়সি পাঠকের জন্যই উপযোগী।