ঘনিয়ে আসছে সূর্য
রিঙকু অনিমিখ
নীল, প্রকাণ্ড ক্যারাম বোর্ডটি
সাদা বরিক পাউডার উড়িয়ে ঝুলে আছে উল্টো
সমস্ত ওপরে
কালো গ্রহগুলোর কোনো প্রতিপক্ষ নেই,
কেবল লাল স্ট্রাইকার টার্ন নিলেই
পড়শি গুটিগুলো সাদা হয়ে ওঠে
প্রতিফলন দর্শনীয়। প্রতিধ্বনি মধুর শ্রবণে
তথাপি, এমন ঘটনায় মৌন বৃক্ষও
হাস্যোজ্জ্বল পাতায়
সে হাসির শব্দ আমাদের চোখের ভেতর
উচ্ছ্বাসে নাচে
যদিও সে নাচ মুদ্রাকাতর
উচ্ছ্বাসের তপ্ত নিশ্বাসে।
মাখন অথবা বন্দুক
তানভীর রাতুল
বন্দুক আর মাখনের বিষয়ে ওরা যা বলে তা ঠিক নয়
এ দুটো একসঙ্গেই চলে— এটাই ভয়াবহ খবর
খুনিদের মেদ জমে আর তাদের বাচ্চারা সুখী
উদার কল্পনায় আমাদের বেছে নিতে হয়
যুদ্ধ অথবা সমৃদ্ধি
যুদ্ধজয় টাকার অঙ্কে ভালো
আরও ভালো গণহত্যা যাকে বলে
এ বিষয়ে প্রচলিত কথা ঠিক না
মাখন আর বন্দুক— এ দুটো একসঙ্গেই চলে।
জাত বীজ
তোফায়েল তফাজ্জল
জাত বীজ রয়েছে ঘরেই
মিলছে না চাষের যোগ্য মাটি,
সংকটের এমন আগুনে
অহোরাত্র করি হাঁটাহাঁটি।
হয়তো বিরুদ্ধে যাওয়ার মতো
কথা ছড়ানো হয়েছে মাঠে,
প্রসঙ্গ উঠলেই সেহেতু সে
লেগে পড়ে কুড়ালে ও কাঠে।
যেদিন বিকালে হাড়ে হাড়ে
টের পায় ক্ষেতের মালিক,
ধান খেয়ে গেছে উড়ে এসে
জুড়ে বসা চতুর শালিক—
তখন বিখণ্ড হয় ভুল,
নদীজুড়ে জেগে গেছে চর;
কী লাভ এখন, রস নেই,
হয়ে গেছে পুরোনো কবর!
স্মৃতি
রিফাত নিগার শাপলা
এখনও গ্রীষ্মকালে
খরবায়ু বয়
ঝরো হাওয়া ঘুরে ঘুরে
কত কথা কয়।
এখনও আকাশে মেঘ
পাল তোলে বেশ
ছড়ায় সবুজ শাখা
আনন্দ রেশ।
এখনও বকুল ডালে
পাখি গান গায়
নদীর ঢেউয়ের তালে
মাঝি নাও বায়।
এখনও পাহাড় ঘেঁষে
দোলে বুনোলতা
উধাও প্রান্তে হাটে
স্নেহ, সজীবতা।
এখনও সেদিন আর
এদিনের কাছে
কালের সাক্ষী শত
স্মৃতি বাঁধা আছে।
এবিসি এগ্রো ফার্ম
শাহ কামাল
একটা মাছের খামার দিয়েছি-
কানি তিনেক জমির ওপর;
বর্ষার পানি পেলেই রুই কাতল ব্রিগেড খেলা করে;
খেলা করে নাইলোনটিকা আর পাঙাশ।
শীতের মৌসুম চলে এলে-
দূরবীনে চোখ পড়ে;
গোল বেগুনের দিকে তাকাতেই দেখি—
পেঁপে গাছের পাতায় জোছনার কথা লেগে আছে।
গ্যাগেরিন,
তোমাকে আজ ভীষণ প্রয়োজন।
ইউরেনাস নেপচুন প্লুটো
যতদূরই থাকুক কেবল চাঁদের জোছনায় তোমাকে খুঁজি।
মাছের চোখগুলো সব তাকিয়ে আছে বরফকুচির বাক্সের ভেতর
আজ রাতে সব এক্সপোর্ট হবে—
খালাসিদের হিড়িক পড়েছে জেটিতে জেটিতে...।
লগ্নটা প্রশান্তির
মাহমুদা মৌ
অপরাহ্ণের উষ্ণ, কোমল সোনালি
রোদের ভেতর,
অলস ঘুমকে উপেক্ষা করে
সুনসান সরু পথ ধরে
গল্পেরা মগ্ন স্বরে জেগে ওঠে।
উন্মুক্ত বুক মেলে দেয়
উদার পৃথিবী;
কানায় কানায় না ভরলেও,
রক্তিম চুম্বনে
ফুল ফোটে মন-বাগানে।
কোকিলের কুহুতানে
খুনশুটিরা ডানা মেলে,
গানেরা গুনগুনিয়ে
সুরের ভেলায় ভাসে।
তন্দ্রাচোখে প্রস্ফুটিত গোলাপের
শিশিরধারার কাছে
নিঃশব্দ আকুতিরা দাঁড়িয়ে থাকে;
অথচ হৃদয়হীন প্রকৃতি
দেয় না কোনো অনুমতি।
তবু লগ্নটা ক্লান্তির নয়-
বরং নীরবতার গভীরে
ধীরে ধীরে ফুটে ওঠা
এক অনন্ত প্রশান্তির।
ভারসাম্যতা
আতিয়ার রহমান
তুলে দিয়ে নীতিকথা শাসনের লাঠি
ভেবে নিলে শিশুমন হবে পরিপাটি
ভীতির বদলে ওরা সোহাগে আদরে
খোশদিলে সব পাঠ নেবে সে সাদরে।
নিজেরা যা মানো নাই, হ’ল সেই ভুলটা
শাসনবিহীন ফল, হয়ে গেল উলটা
স্বাধীন বেয়াড়া মন, নামতায় ভুল
ভুলে গিয়ে চারুপাঠ, বিপন্ন ফুল।
অঙ্ক মেলে না তাই, বাহির ও ঘরোয়া
অশালীন অনাচারে ‘নেহি কুচ’ পরোয়া
গুরু মারে বীরত্বে, কিল চড় ঘুষিতে
নিজেদের ব্যর্থতা কারে চাও দুষিতে!
নীতিহীন রাজনীতি, ঘরে ঘরে খাই খাই
দড়িছেঁড়া উৎসব ভেদ-বোধ পুড়ে ছাই
আলোহীন শিক্ষায় স্বস্তি ও সুখ নাই
আদর শাসনে ভার, সাম্যতা ফিরে চাই।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা