সুপ্তার বৃক্ষরোপণ

রাহেলা আক্তার

সাহিত্য

ছোটবেলা থেকেই সুপ্তা প্রকৃতিপ্রেমী। গাছপালা, ফুল আর পাখির প্রতি তার আলাদা টান। বর্ষা এলেই তার আনন্দের সীমা থাকে না। বৃষ্টির

2026-08-01T08:44:38+00:00
2026-08-01T08:44:38+00:00
 
  শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
সাহিত্য
সুপ্তার বৃক্ষরোপণ
রাহেলা আক্তার
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৪ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ছোটবেলা থেকেই সুপ্তা প্রকৃতিপ্রেমী। গাছপালা, ফুল আর পাখির প্রতি তার আলাদা টান। বর্ষা এলেই তার আনন্দের সীমা থাকে না। বৃষ্টির জলে ধুয়ে-মুছে গাছপালা হয়ে ওঠে সতেজ। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে সবুজের সমারোহ। কদম ফুলের মিষ্টি সুবাসে ভরে যায় প্রকৃতি। পুকুরে ভেসে থাকা কদম ফুল কুড়িয়ে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে এনে চুলে গুঁজে দেয় সে।

নিজের ছোট্ট বাগানটি সে খুব যত্ন করে সাজিয়েছে। সেখানে কাউকে সহজে হাত দিতে দেয় না। প্রতিদিন নিজেই গাছে পানি দেয়, আগাছা পরিষ্কার করে, ফুলগাছের পরিচর্যা করে।

প্রতিদিন সকালবেলা কয়েকটি দোয়েল, শালিক, টুনটুনি আর চড়ুই তার বাগানে আসে। সুপ্তা তাদের জন্য শস্যদানা ছিটিয়ে দেয়। পাখিগুলোও যেন তাকে আপনজন মনে করে। সে বাগানে গেলেই তারা ডানা ঝাপটিয়ে তার চারপাশে উড়ে বেড়ায়। মানুষ আর প্রকৃতির এই বন্ধন সুপ্তার মন ভরে দেয় আনন্দে।

একদিন স্কুল থেকে ফিরে সুপ্তা আনন্দে দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে বলল, আম্মু! জানো, আমাদের স্কুলে বিনামূল্যে গাছের চারা দেওয়া হবে। স্যার দুই কপি ছবি আর জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি আনতে বলেছেন।

মা হেসে বললেন, তাই নাকি? তা হলে কাল সব কাগজপত্র নিয়ে যেও।

সেদিন থেকে সুপ্তার যেন আর তর সয় না। সারাক্ষণ সে ভাবতে থাকে কোন কোন গাছ নেবে, কোথায় লাগাবে, কীভাবে যত্ন করবে।

পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নাশতা করে সে স্কুলে চলে গেল। দ্বিতীয় ঘণ্টার পর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করলেন। সুপ্তা নিজের পছন্দমতো একটি আম, একটি জাম, একটি ডালিম, একটি নিম এবং একটি গন্ধরাজ ফুলের চারা নিল।

বাড়ি ফিরে সে আনন্দে বলল, দেখো আম্মু! আমি কত সুন্দর সুন্দর গাছ এনেছি।

গাছগুলো দেখে মা বললেন, সবই তো ফলের গাছ। কাঠের গাছ নিলে না কেন?

সুপ্তা মুচকি হেসে বলল, আম্মু, ফলের গাছ বেশি এনেছি, কারণ পাখিরাও তো খাবার পাবে। আমরা কি প্রতিদিন ওদের খাবার দিই? ওরা গাছের ফল খেয়েই বেঁচে থাকে। আর নিমগাছ মানুষের জন্য খুব উপকারী। বইয়ে পড়েছি, এটি বাতাস বিশুদ্ধ করে এবং অনেক রোগজীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। স্যার বলেছেন, বাড়ির প্রবেশপথে নিমগাছ লাগানো ভালো। আর গন্ধরাজ ফুলের গাছটি আমার বাগানে লাগাব। ফুল ফুটলে তার সুবাসে পুরো বাড়ি ভরে যাবে। বলো তো আম্মু, আমি কি ভুল গাছ এনেছি?

মা স্নেহভরা চোখে তাকিয়ে বললেন, না মা, তুমি খুব ভেবেচিন্তেই গাছগুলো এনেছ।

সুপ্তা আবার বলল, তা হলে বলো, কোন গাছ কোথায় লাগাব?

মা একটু ভেবে বললেন, নিমগাছটি বাড়ির প্রবেশপথে লাগাও। আমগাছটি ঘরের সামনে, ডালিমগাছটি বাড়ির পাশে আর জামগাছটি পুকুরপাড়ে। তা হলে মানুষ যেমন ফল খেতে পারবে, তেমনি পাখিরাও খেতে পারবে। আর গন্ধরাজ ফুলের গাছটি তোমার বাগানেই লাগাও।

সুপ্তা খুশি হয়ে বলল, আজ বিকালেই সব গাছ লাগিয়ে ফেলব। এখন তো বর্ষাকাল, তাই আলাদা করে পানি দিতে হবে না। তবে আমি স্কুলে থাকলে তুমি গাছগুলোর খেয়াল রেখো। নইলে ছাগল এসে খেয়ে ফেলবে।

মা হেসে বললেন, আচ্ছা, দেখে রাখব।

হঠাৎ সুপ্তার মাথায় নতুন বুদ্ধি এলো।

না আম্মু, শুধু দেখে রাখলেই হবে না। আমরা বাঁশের টেংরা দিয়ে চারপাশে বেড়া করে দেব। তা হলে গাছগুলো নিরাপদ থাকবে।

মা বললেন, বাহ! খুব ভালো বুদ্ধি। তাই করা হবে।

বিকালে মা-মেয়ে মিলে উঠানে গর্ত করে একে একে সব গাছের চারা রোপণ করল।

গাছ লাগিয়ে সুপ্তা দুই হাত তুলে বলল, আজ থেকে তোমরা আমার বন্ধু। আমি তোমাদের বড় করে তুলব।

তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, মা, মনে রেখো, গাছ শুধু ফল, ফুল আর কাঠই দেয় না। গাছ আমাদের বাঁচিয়েও রাখে। আমরা যে অক্সিজেন নিই, তা গাছ থেকেই পাই। আর আমরা যে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ি, গাছ তা গ্রহণ করে পরিবেশকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখে। তাই আমাদের বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে, আর সেগুলোর যত্নও নিতে হবে।

মা মেয়ের মাথায় হাত রেখে মৃদু হেসে বললেন, সত্যিই মা, আজ তুমি আমাকে নতুন করে প্রকৃতি আর পরিবেশকে ভালোবাসতে শিখিয়েছ।

সেদিন থেকেই সুপ্তার ছোট্ট বাগানটি আরও সবুজ হয়ে উঠতে লাগল। তার বাগান দেখে গ্রামের অন্য শিশুরাও উৎসাহ পেল। তারাও নিজের বাড়িতে গাছ লাগাতে শুরু করল।

কারণ একটি গাছ শুধু একটি গাছ নয় একটি গাছ মানে নির্মল বাতাস, সবুজ প্রকৃতি, পাখির আশ্রয় আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি পৃথিবী।

সময়ের আলো/আরবিএন 




  বিষয়:   সাহিত্য  শিশুসাহিত্য  সুপ্তার বৃক্ষরোপণ  রাহেলা আক্তার 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: