ডুব-সাঁতার খেলা
আসাদুল্লাহ মুক্তা
না দেখার ভান করে চোখ বুজে দেখো...
অন্ধকার অরণ্যে ডুব-সাঁতার খেলার ঘোলাটে দ্শ্যৃ
জীব জগৎ প্রকৃতি নিয়ে উল্টো পথে চলো
কি বিচিত্র তোমার পথ চলা...
এমন উদাসীন জীবন মানে অর্থহীন
বেঁচে থাকা।
যত অঘটনের শব্দ তরঙ্গ বাজে না তোমার কানে
ওলোট পালোট ঝড়ের ধ্বনি শোনো না তুমি
কর্ণকূহরে ঢোকে না সে আহত আর্তচিৎকার
চিৎকারে শ্রবণ বধির তোমার বিরল শোনা।
দুখের দহন তাড়িত জীবনকে পরশ দিয়ে ছুঁয়ে দেখেছো কখনো
কষ্টকাতর কাফনে অর্জিত অমরত্বের কাহিনি হৃদয় দিয়ে শুনছ কখনো
কি অভিশাপে অরক্ষিত তাদের জীবন ব্যবস্থা! সেটা বুঝেছ কখনো।
এভাবেই বয়ে যায় জীবন
নাহারফরিদ খান
সম্পন্ন নয়তো, সম্পন্ন নয় ঘর
তবু তো বুনে চলে স্বপ্নের নগর
কতনা চিত্রকল্প, নানান স্বপন
প্রতিদিন উদয় শ্বাশত মনন
সম্পূর্ণ হয় নাকি সাধের জীবন!
টানাপোড়েনে জীবনের পারাপার
চারদিকে বড়ো বেশি হাহাকার
তবু তো মানুষ বাঁচতে চায়
ভালোবাসা আর মায়া মমতায়
অরণ্যের স্নিগ্ধ নিবিড় ছায়ায়।
যাবতীয় মনভাঙা কত কারণ
প্রতিনিয়ত করতে হয় যে বরণ
ভালোবাসা বিরহেও উষ্ণতা খোঁজে
কথোপকথনেও অবহেলা বোঝে
বিষণ্ন, তবু ফুল কবরীতে গুঁজে।
মন কাঁদে বর্ষায়
হাফিজ রহমান
নীলাকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘ,
অবিরাম বর্ষণের ধারায় ভিজে যায় পথ-প্রান্তর,
আহা! এই হৃদয় আকাশেও জমে আছে
কালো মেঘ ঘন অশ্রু আর অন্ধকার।
ঝরঝর বৃষ্টির শব্দে যখন নিস্তব্ধ পৃথিবী কাঁপে,
মনে হয় দূরে কোনো ব্যথিত বাঁশি বুকের গভীরে
গোপন বেদনার কথা অবিরত বলে যায়।
মেঘ সূর্যের মুখ ঢেকে রাখে,
তেমনি করে সুখের মুখ ঢেকে দিয়ে
কত অভিমান নীরবে নামায় বিরহের বৃষ্টি!
বাতাসে কদমের গন্ধ, নদীর বুকে জলের ঢেউ,
অথচ আমার অন্তরে নেই কোনো আনন্দ,
শুধু অনন্ত প্রতীক্ষার মতো এক দীর্ঘশ্বাসের মেঘ জমে আছে।
মেঘ শৃঙ্খল
রিপন বর্মণ
রাতভর হার না মানা বৃষ্টি
ঘুম নেই চোখে...
তুমি আছ! তবু নেই
কয়েকটা অন্ধকারের ফোঁটার মতো
নৈঃশব্দ্য পায়চারি।
তুমি আছ! তবু নেই...
সিলিংজুড়ে অসাড় প্রেম!
ভোরের আলো এখনও নির্বাসনে বাঁধা
কিছুটা পাপ কিছুটা পুণ্যের জলে
গলা ভেজাচ্ছে শ্মশানগামী কাক।
রাতভর হার না মানা বৃষ্টি
ঘুম নেই ঘুম নেই।
চলমান
পিয়াস মজিদ
ছবির মতো একটা দূরাভ দিনে ঢুকে গিয়ে বুঝলাম কতটা প্রিয় নিজস্ব দিন রাত। প্রাসাদ। বাগান। ফুল। ফল। রং। সুন্দরের ভারে রুদ্ধশ্বাস। জুত করে বসতে গেলে এত শোভা নিজের পায়ে দাঁড়াবার পরিসর দেয় না। যারা যাচ্ছে কোথাও, হাতে কাজুও ইশিগুরো; যারা আসছে, কানে হেডফোন; তাদের কাছাকাছি থেকে মহাকাশের মেট্রোতে অনায়াসে চলাচল করি। বাতাসে যত বৃংহতি, ঘোড়াযুগের বহু আগ থেকে আস্তাবল বহন করে তোমার মুখোমুখি সস্তা কোনো কফিশপে বসেছি। বেঁচে থাকা একমুখী। বেঁচে থাকা বিবিধ। ঠিক করতে হবে কোনটা বেছে নেব। দুর্গের দুয়ার পাহারা দিতে দিতে সমুদ্রকে সীমিত ভেবে আমার মতো কারও চোখের পানিকে ভাবতে পারো অনন্ত তরঙ্গবহুল।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা