এই সপ্তাহের কবিতা

সাহিত্য

আলোর ঘোড়ারাকিবুল ইসলাম রাহানঝিরিঝিরি হাওয়ায় দোলেঐ যে কাশের তোড়া,মেঘের ফাঁকে রোদ ছড়িয়েছুটছে আলোর ঘোড়া।ভোরবেলায় শিউলি ঝরেশিশিরভেজা ঘাসে,নদীর জলে আলো নাচে,খুকি

2026-08-22T04:48:49+00:00
2026-08-22T04:48:49+00:00
 
  শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬,
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
সাহিত্য
এই সপ্তাহের কবিতা
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৮ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আলোর ঘোড়া  
রাকিবুল ইসলাম রাহান


ঝিরিঝিরি হাওয়ায় দোলে
ঐ যে কাশের তোড়া,
মেঘের ফাঁকে রোদ ছড়িয়ে
ছুটছে আলোর ঘোড়া।

ভোরবেলায় শিউলি ঝরে
শিশিরভেজা ঘাসে,
নদীর জলে আলো নাচে,
খুকি দেখে হাসে।

উথালপাথাল নদীর বুকে
সাদা পালের নাও,
শরৎ এলো গাঁয়ের পথে,
একটু ফিরে চাও।

দিনের শেষে কাশবনে
সন্ধ্যা নেমে আসে,
মিষ্টি হাওয়ায় শরৎ-গল্প
দুলে দুলে ভাসে।




শরৎ এলো
সারমিন চৌধুরী


শরৎ এলো বাংলাদেশে
নীল আকাশের নাওয়ে,
কাশফুল দোলে মাঠের ধারে
মিষ্টি হাওয়ার দোলায়।

শরৎ এলো শিউলি নিয়ে
ভোরের স্নিগ্ধ বেলায়,
শিশিরভেজা ঘাসের বুকে
মুক্তো যেন ঝরায়।

শরৎ এলো নদীর বুকে
সাদা পালের নাও,
দিগন্তজোড়া নীলের মাঝে
মেঘের ভেলা দাও।

শরৎ এলো মাঠের পথে
আমন ধানের গন্ধে,
পাখির গানে মন যে নাচে
আনন্দেরই ছন্দে।

শরৎ এলো উৎসব নিয়ে
হাসিভরা প্রাণে,
কাশের বনে দোলা দিয়ে
বাংলাদেশের গানে।




পুবের নদীর দুপুর
এম এ জিন্নাহ 


কুচুরমুচুর চালতা গাছে 
বকের হানাহানি;
বক গিয়েছে নদীর কাছে 
মাছের কানাকানি। 

নদীর কূলে বোয়াল মাছে 
হা করেছে মস্ত;
একাই যেন গিলে খাবে
বন্যহাতির হস্ত। 

ছুটছে বাতাস দানব হয়ে
ভাঙছে ছনের ঘরকে;
হঠাৎ করে কাঁপিয়ে তোলে
নতুন জাগা চরকে।

দুপুরবেলার শীতল হাওয়া
থাকবে আরো টিকে; 
নোঙর ছিঁড়ে তরী চলে 
পুব নদীটার দিকে। 




আমার বাবা
রানাকুমার সিংহ


বাবা আমার উদার আকাশ, বাবার বিশাল মন,
এই দুনিয়ায় বাবাই রাখেন আগলে সারাক্ষণ।

শাসন করেন আদর দিয়ে, মায়ায় ভরা চোখ,
বুকের ভেতর ভরসা জাগে- পথ যেমনই হোক।

রোদ-বৃষ্টির ক্লান্তি ভুলে খাটেন বারো মাস,
আমরা যেন বাবার বুকে হয়ে উঠি শ্বাস!

ভুল করে যেই থমকে দাঁড়াই, বাড়িয়ে দেন হাত,
বলেন-  ‘খোকা, ভয় কী তোর? কাটবে কালো রাত!’

হাতটি ধরে যান চিনিয়ে অচেনা পথের মোড়,
বাবার ছায়ায় কাটে ভালো সকাল, সন্ধ্যা, ভোর।

গল্প-গাথার সুপারহিরো অনেক আছে ঢের,
আমার কাছে আমার বাবাই সবার সেরা হিরো!





টক-মিঠে আমড়া
শচীন্দ্রনাথ গাইন 


নুন-ঝাল-মসলায় মেখে নিয়ে আমড়া,
নাতিটাকে ডেকে দাদ বলে, তুই কামড়া। 
চেয়ে চেয়ে দেখে শুধু ফিরায় না দৃষ্টি, 
কী দারুণ সুস্বাদু জিভকাড়া সৃষ্টি। 

কচকচ করে নাতি চোখ বুঁজে খাচ্ছে, 
ভাবেসাবে বোঝা যায় ভারী মজা পাচ্ছে। 
দাদু পুরো ভাষাহীন মানে নারে মন তো,
মুখ থেকে সেই কবে ঝরে গেছে দন্ত।

নাম শুনে জিভে পানি, তা যে টক-মিষ্ট
দাঁত ছাড়া হবে না তো সহজে তা পিষ্ট। 
নাতি হাসে খিলখিল দাদু খুশি মস্ত, 
আদরে বুলায় তার মাথা-মুখে হস্ত।





বোয়াল মাছের বিয়ে
শারমিন নাহার ঝর্ণা


পুঁটি মাছে পরেছে আজ একটি নতুন শাড়ি,
বোয়াল মাছের বিয়ে হবে যাচ্ছে বিয়েবাড়ি।
পুঁটি মাছের শাড়ি দেখে টাকি মাছে কয়,
নাচনে পুঁটির রূপটা দেখে বড্ড হিংসে হয়।

রুই কাতলা হেসে বলে সবাই পরব শাড়ি,
সেজেগুজে গয়না পরে যাব বিয়েবাড়ি।
বোয়াল মাছের মনটা নরম কাঁদছে চুপিচুপি,
মিষ্টিমুখে সান্ত্বনা দেয় বোয়াল মাছের ফুপি।

কাঁদলে যাবে মেকাপ মুছে বরটা করবে আড়ি,
হাসিমুখে যেতে হবে তোমায় শ্বশুরবাড়ি।
এমন করে কাঁদে নাকো ওরে মিষ্টি সোনা,
বরযাত্রী আসছে সেজে, সাথে মাছের পোনা।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: