আষাঢ়স্য বেলা যায়

টোকন ঠাকুর

সাহিত্য

আষাঢ়স্য বেলা যায়, কোথায় যায়? এই যে মানুষ কথায় কথায় বলে, মেঘে মেঘে বেলা তো কম হলো না! কেন বলে

2026-06-20T19:56:12+00:00
2026-06-20T19:56:12+00:00
 
  শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
সাহিত্য
আষাঢ়স্য বেলা যায়
টোকন ঠাকুর
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আষাঢ়স্য বেলা যায়, কোথায় যায়? এই যে মানুষ কথায় কথায় বলে, মেঘে মেঘে বেলা তো কম হলো না! কেন বলে এ কথা? বেলা কি শুধু মেঘেই হয়? কেউ কেউ গান গায় আষাঢ়স্য দিবসের গান। সেই গানে বৃষ্টি ঝরে? মেঘ ডমরু বাজে। বিদ্যাপতি কহেন, বৃষ্টির একেকটি ফোঁটা শরীরে বিদ্ধ হচ্ছে, মানে হলো গিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা নিজেই কামদেব হয়ে প্ররোচণা দিচ্ছে। কাকে প্ররোচণা দিচ্ছে? শ্রীমতি রাধিকার? কেন, কানু এ সময় পাশে নেই বলে? অনুপস্থিত কানুই কি বৃষ্টি-বিন্দু রাধিকার শরীরে বিদ্ধ করছে? ধড়ফড়ানি হচ্ছে বুকের ভেতর? ময়ূর কি নাচল? ব্যাঙ কি ডাকল? মন কি শুষ্ক, না ভেজা?

শুরুতেই বলছিলাম, আষাঢ়স্য বেলা যায় এবং সংযুক্ত প্রশ্ন ছিল, বেলা কোথায় যায়? আর মানুষই বা কেন বলে থাকে, মেঘে মেঘে অনেক বেলা হলো। সেই মেঘ কি আষাঢ়ের মেঘ? নাকি সেই মেঘ কালিদাসের? সেই মেঘ কি জান্নাতের মেঘ, জান্নাত একটি কিশোরী মেয়ে, মোহাম্মদপুর-বসিলার ওদিকে ফুটপাথের ঝুপড়িতে থাকে। মা-বাবা উধাও। থাকে এক দূর-সম্পর্কের তার এক বুড়ি নানির কাছে। নানি ভিক্ষা করে। জান্নাত রাস্তায় ফুল বিক্রি করে। সেই ফুল কিনে নেয় তরুণ প্রেমিক, যাকে তা দেওয়ার, তাকে কি তা দিতে পারে? সেকি পারে না পারে, তার কথা বাদ। আমরা বৃষ্টির মধ্যে ছিলাম, আমরা ফুটপাথের ঝুপড়িতে জান্নাত তার নানির সঙ্গে ছিলাম। ছিলাম কি, আছি। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে একটানা, মেঘ ডাকছে, বিদ্যুৎ ঝিলিক দিচ্ছে। 

জান্নাতদের ঝুপড়িতে বসে আমি ভাবছি, আষাঢ়ের বেলা কোথায় যায়? রবীন্দ্রনাথের গান কি এই ঝুপড়িতে বাজবে কখনো? বসন্তের এক গানে, আহা আজি এ বসন্তের ভেতর, এক জায়গায় রবীন্দ্রনাথ বলছেন না ‘দুখিনী নারীর নয়নের নির/ সুখীজনে যেন দেখিতে না পায়...’। একী শ্লেষ, না সহানুভূতি? শিল্পী কী নির্দয়ভাবে গাচ্ছেন, যার কথা গাচ্ছেন, সে কি শুনতে পাচ্ছে? দুখিনী নারীর নয়নের নির কি দূর হচ্ছে? ধরি দুর্গা বৃষ্টিতে ভিজছে। কিশোরী দুর্গা বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরে। তার জ্বর হয়। জ্বরে ভুগে সে মারা যায়। বিভূতিভূষণ কী দরদ দিয়ে আঁকলেন এই ছবি, এতে পাঠকের কি মন ভিজে গেল। তাতে দুর্গার কি? সে তো আর বাঁচল না।

শিল্পীও চরম নিষ্ঠুর, শিল্পীও ভীষণ বণিক। অবশ্য বাণিজ্যপ্রধান মনুষ্যসমাজে এ হয়তো তেমন কোনো দোষেরও নয়।

তো বেলা কোথায় যায়, মানে সময় কোথায় যায়? জানি না। ঈশ্বরের ছদ্মনামই কি সময়? তবে এটুকু আমরা জানি, বাংলায় আষাঢ় আসে, ফলের মৌসুম হয়ে আসে, বৃষ্টির ধুম হয়ে আসে। আষাঢ় কবিতা হয়ে আসে, গান হয়ে আসে। আষাঢ় ভালোবাসা হয়ে আসে। কদম হয়ে আসে। আবার ভালোবাসা হয়ে যেহেতু এই আষাঢ়, এই মেঘ, এই বৃষ্টি আসে তাই মেঘ বিরহ হয়েও আসে। তরুণ কবির খাতা ভর্তি হয়ে যায় মেঘে। তরুণ কবির খাতা ভর্তি হয়ে থাকে নির্ঘুম প্রেমে, তিনগুণ যন্ত্রণায়। 

অর্থাৎ আষাঢ় আসে, আষাঢ় এত কিছু নিয়ে আসে। কে আসতে বলেছে আষাঢ়কে? তরুণ কবি বলেছে? তরুণ কবি একেকটা বায়না ধরবে আর তার সব বায়না পূরণ করতে হবে? তরুণ কবি বলেছে, লাগলিঙ্গম ফুল তুমি আমার ঘরের জানালার কাছে আস। বলেছে, নির্ঘুম রাতের পর ভালোবাসা তুমি আমার ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ো।

তরুণ কবি বলেছে, দিগন্তে আজ বৃষ্টিতে এক হরিণী যেন খুব মাখামাখি করে সারাবেলা। এসব বায়না মেটানো সম্ভব?
তো কথা কি আমরা তরুণ কবির বায়না নিয়ে বলছিলাম, না আষাঢ়ের মেঘ দিয়ে শুরু করেছিলাম? কথার শুরু যা হয়, তারপর কথা চলতে চলতে চলতে চলতে, হাঁটতে হাঁটতে দৌড়াতে দৌড়াতে কথা কোথায় যায়? কথা কার উদ্দেশ্যে প্রকাশ হয় আর কার কাছে গিয়ে পৌঁছায়? কথা কি থামবে না? কথা কি ক্লান্ত হবে না? কথা কি হাঁটু গেড়ে নতজানু হয়ে বসবে না? কোথায় বসবে? কার কাছে গিয়ে বসবে?

কথা কি আষাঢ়ের মেঘ? কথাও কি কোথাও যাবে বলে বেরিয়েছে, তার ফেরার ব্যবস্থা নেই। কথা কি সময়ের যমজ? কথাও কি ঈশ্বরের ছদ্মনাম?

আপাতত থামছি। কথা ঘুমাবে। সত্যি, কথারা কি ঘুমায়?


  বিষয়:   টোকন ঠাকুর  আষাঢ়স্য বেলা যায় 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: