তিস্তার ভয়াল গ্রাসে বসতভিটা, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলমান পূর্ব তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলাকালেই

2026-06-26T18:34:26+00:00
2026-06-26T18:34:26+00:00
 
  শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬,
১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
সারাদেশ
তিস্তার ভয়াল গ্রাসে বসতভিটা, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম 
তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ। ছবি : সময়ের আলো
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলমান পূর্ব তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলাকালেই নতুন করে শুরু হওয়া এই ভাঙনে মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একাধিক পরিবারের স্বপ্ন ও বসতভিটা। সর্বস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত নদীপাড়ের মানুষজন।

​শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় হঠাৎ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইদ্রিস আল, মহিরণ বেওয়া, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতভিটা তিস্তার গর্ভে তলিয়ে যায়। আকস্মিক এই ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পরিবার বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, শত কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ৪০টি প্যাকেজের কাজের ধীরগতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। কাঙ্ক্ষিত সুফল না মেলায় নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো প্রতিরক্ষা গড়ে উঠছে না।

​এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জাহেরুল ইসলাম মাওলানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি আর কাজের ধীরগতিতে আমরা আজ নিঃস্ব। লেবার সর্দারের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং সম্পন্ন না হলে বরাদ্দের টাকাও অপচয় হবে, আর ভোগান্তি বাড়বে আমাদের।


​এদিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়ত তাদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা পেত।

​সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব মজিদুল ইসলাম জানান, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে একটি প্যাকেজের কাজ বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও তা যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেই দাবি জানান তিনি।

​এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, রামহরি এলাকায় আগে ইমারজেন্সি জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল, তবে তা টেকসই হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ পুনরায় ওই এলাকায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

​নদীপাড়ের মানুষের একটাই দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে তিস্তার এই ভয়াল থাবা থেকে দ্রুত তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি রক্ষা করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   তিস্তা  ভয়াল গ্রাস  বসতভিটা  দিশেহারা  নদীপাড়  মানুষ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: