চীনের সাংহাইয়ে বসবাসরত সফটওয়্যার কর্মী ভিনসেন্ট ঝাংয়ের জীবনে এখন এক অদ্ভুত আশ্রয়- ইন্টারনেটে পাওয়া তার ‘ভার্চ্যুয়াল বাবা-মা’। বাস্তব জীবনে যাদের কাছ থেকে তিনি কখনো প্রশংসা বা আবেগপূর্ণ সমর্থন পাননি বলে দাবি করেন, সেই শূন্যতা পূরণ করছেন অনলাইনের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতির মাধ্যমে।
খাওয়ার সময় বা বিরতির ফাঁকে মোবাইলে এই দম্পতির ভিডিও খোঁজেন ভিনসেন্ট। ভিডিওতে তারা যেন এক আদর্শ বাবা-মায়ের ভূমিকায় দর্শকদের উদ্দেশে বলেন- ‘তুমি অনেক পরিশ্রম করছ, নিজেকে এত চাপ দিয়ো না।’
ভিনসেন্ট বলেন, ছোটবেলার পারিবারিক সেই সহজ-স্বাভাবিক মুহূর্তগুলো তিনি এখনো মিস করেন। তবে বাস্তবে তার পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে আবেগপূর্ণ যোগাযোগ বা স্বস্তিদায়ক কথোপকথন নেই বলে তার অভিযোগ।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ডউইন’-এ প্যান হুচিয়ান ও ঝাং জিউপিং দম্পতি ‘ভার্চ্যুয়াল বাবা-মা’ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। প্রায় ২০ লাখ অনুসারী থাকা এই দম্পতি ভিডিওতে দর্শকদের উদ্দেশে স্নেহ, সহানুভূতি ও মানসিক সান্ত্বনার বার্তা দেন।
তাদের একটি জনপ্রিয় ভিডিওতে শোনা যায়- ‘তুমি কি খুব ক্লান্ত? মা-বাবা জানে তুমি অনেক কষ্ট করছ।’ এই ভিডিওগুলোতে অসংখ্য দর্শক নিজেদের সন্তান বা ‘ভার্চ্যুয়াল সন্তানের’ পরিচয়ে মন্তব্য করেন এবং আবেগ শেয়ার করেন।
আরও পড়ুন
৩৩ বছর বয়সী ভিনসেন্ট জানান, পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলাও তার জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা-মা প্রায়ই তার চাকরি ও ক্যারিয়ার নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সরকারি চাকরিকে বেশি নিরাপদ মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘ফোন কল শুরু হলেই আমার সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন শুরু হয়।’
চীনের তরুণ প্রজন্ম বর্তমানে কঠোর প্রতিযোগিতা, চাকরির অনিশ্চয়তা ও পারিবারিক প্রত্যাশার চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ধীরগতির প্রভাব তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ও হতাশা বাড়িয়েছে।
ভার্চ্যুয়াল বাবা-মা হিসেবে পরিচিত প্যান হুচিয়ান জানান, তার নিজের শৈশবও সহজ ছিল না। পরিবারের কঠিন বাস্তবতা তাকে এমন কনটেন্ট তৈরিতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি বলেন, দর্শকদের আবেগ তিনি বুঝতে পারেন, কারণ তাদের অনেকেই একই ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
এই ট্রেন্ডের মাধ্যমে চীনের তরুণদের মধ্যে পরিবার, প্রত্যাশা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কেউ কেউ এটিকে সাময়িক মানসিক স্বস্তির মাধ্যম হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি বাস্তব সম্পর্কের ঘাটতির প্রতিফলন।
এএডি/