সিয়াটল স্টেডিয়ামের ঘড়িতে তখন স্টপেজ টাইমের খেলা চলছে। মিশরের রক্ষণভাগ ভেঙে বল জালে জড়ালেন ইরানের ডিফেন্ডার শোজা খালিলজাদে। গ্যালারিজুড়ে তখন ইরানি সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস। গোলটি হতেই মনে হচ্ছিল, সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখতে চলেছে ইরান। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। রেফারির দীর্ঘ ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ইরানি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাস রূপ নেয় ঘোর হতাশায়।
সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হতে পারে, রেফারির এই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। কারণ মাঠের চিত্রে খালিলজাদে স্পষ্টভাবেই মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিমের পেছনে ছিলেন। তবে ভিএআর প্রযুক্তির লাইনটি টানা হয়েছিল ইব্রাহিমের সাথে নয়, বরং মিশরের অন্য খেলোয়াড় হামজা আবদেলকারিমের অবস্থান ধরে। মূলত ফুটবলের অফসাইড আইনের অত্যন্ত বিরল একটি প্রয়োগের দেখা মিলল এই ম্যাচে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) অফসাইড আইন বলছে, কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের মাথা, শরীর বা পা যদি বল এবং প্রতিপক্ষের ‘দ্বিতীয় সর্বশেষ’ খেলোয়াড়ের চেয়ে গোললাইনের বেশি কাছাকাছি থাকে, তবে তিনি অফসাইড বলে গণ্য হবেন।
সাধারণত ম্যাচের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে গোলরক্ষক সবার পেছনে থাকেন, যার ফলে গোললাইনের দিক থেকে শেষ খেলোয়াড় হন তিনি এবং ‘দ্বিতীয় সর্বশেষ’ খেলোয়াড় হন মাঠের যেকোনো একজন ডিফেন্ডার। কিন্তু এই নির্দিষ্ট মুহূর্তে ঘটেছিল ব্যতিক্রমী এক ঘটনা। মিশরের গোলরক্ষক শোবেইর আগের একটি শট ঠেকাতে গিয়ে নিজের গোললাইন ছেড়ে বেশ সামনে বেরিয়ে এসেছিলেন। যার ফলে গোললাইনের সবচেয়ে কাছে শেষ রক্ষক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডিফেন্ডার ইব্রাহিম, আর নিয়মের হিসেবে ‘দ্বিতীয় সর্বশেষ’ খেলোয়াড় হয়ে যান আবদেলকারিম। ভিএআর লাইনে দেখা যায়, খালিলজাদে ঠিক এই আবদেলকারিমের চেয়ে সামান্য সেন্টিমিটার ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ফলে আইন অনুযায়ী গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি একদম সঠিক ছিল।
গোলরক্ষক যখন শেষ রক্ষক হিসেবে নিজের পজিশনে থাকেন না, তখন অফসাইডের হিসাবটা যে কতটা বদলে যায়-তারই এক নিখুঁত ও বিরল উদাহরণ হয়ে রইল এই ম্যাচ। আর নিয়মের সেই সূক্ষ্ম লাইনের মারপ্যাঁচেই থমকে গেল ইরানের ঐতিহাসিক নকআউটের স্বপ্ন।
সময়ের আলো/আরবিএন