খুনের উপায় ও ধরা পড়লে উত্তর গুগলে অনুসন্ধান করেছিল হবু স্ত্রী
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
সংগৃহীত ছবি
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের লোহাগড় দুর্গে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, হবু বর কেতনকে পাহাড়ের গভীর গিরিখাতে ঠেলে ফেলে দেওয়ার আগে খুনের নানা উপায় নিয়ে গুগলে অনুসন্ধান করেছিল প্রেমিকা সিয়া গোয়াল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পুলিশকে ফাঁকি দিতে আগেভাগেই খুনের মহড়া বা ‘রিহার্সাল’ করা থেকে শুরু করে বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি করে রেখেছিল এই দুই অভিযুক্ত। আজ রোববার (২৮ জুন) সিয়া ও চেতনকে সাথে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে অপরাধের পুরো দৃশ্যটি পুনর্নির্মাণ বা ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন করছে পুনে রুরাল পুলিশ।
পুনে পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডকে নিখুঁত ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে সাজাতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল সিয়া ও চেতন। দুর্গে লোকসমাগম কম থাকার দিনগুলোতে নিজেরা একা গিয়ে পুরো খুনের ছকটি তারা মহড়া করে। এমনকি ধরা পড়লে পুলিশ কী কী প্রশ্ন করতে পারে, তার সম্ভাব্য উত্তরও দুজনে আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিল।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় তীব্র গরমের মধ্যেও চেতন একটি হুডি পরে নিজের মুখ আড়াল করে দুর্গে উঠেছিল। ধরা পড়ার ঠিক আগে ও পরে দুজনেই মোবাইল ফোনের সমস্ত চ্যাট হিস্ট্রি এবং রিসাইকেল বিন সম্পূর্ণ মুছে ফেলে। বর্তমানে ফরেনসিক ল্যাবে সেই ফোন থেকে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যদি কোনোভাবে পাহাড় থেকে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যর্থ হতো, তবে কেতনকে বিষ খাইয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে মারার জন্য একটি বিকল্প পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করে রেখেছিল তারা।
এনডিটিভিতে সর্বশেষ ও ব্রেকিং নিউজ
তদন্তে জানা গেছে, গত ১৮ জুনের চূড়ান্ত ঘটনার আগে ১৪ জুনও কেতনকে একই দুর্গে নিয়ে গিয়ে মারার চেষ্টা করেছিল সিয়া। সেদিন সিয়া তাকে পাহাড়ের খাদে ধাক্কা মারলেও কেতন পাশের একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে বেঁচে যান। সন্দেহ এড়াতে সিয়া তখন সাপ দেখার কথা বলে চিৎকার শুরু করে নাটক সাজায় এবং কেতনকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করে। এর আগে কেতনের সাথে প্রাক-বিবাহ শ্যুটিংয়ের বিদেশ সফর এড়াতে সিয়া নিজেই কেতনের পাসপোর্ট লুকিয়ে পরে তা ছিঁড়ে টয়লেটে ফেলে দিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
কেতন আগরওয়াল ছিলেন পুনের ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। আগামী নভেম্বরে রাজস্থানে তাদের ধুমধাম করে বিয়ের আসর বসার কথা ছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের জন্য একটি প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল এবং অতিথিদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ বিমানের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু সিয়া তার প্রেমিক চেতনের সাথে থাকার জন্য এই বিয়ে ভেঙে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
গতকাল শনিবার রাতে কেতনের আবাসন এলাকায় একটি মোমবাতি মিছিল বের করা হয়। সেখানে কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল উপস্থিত সাধারণ মানুষের কাছে আবেগঘন আবেদন জানান। তিনি বলেন, অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেসেজ করে সেদিনের ঘটনার সময় দুর্গে উপস্থিত থাকার কথা জানালেও পুলিশের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ছেলের বিচার পেতে তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ভয়ে পুলিশের সামনে আসার অনুরোধ জানান এবং তাদের কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে হবে না বলে আশ্বস্ত করেন।
লোহাগড় দুর্গের টিকিট কাউন্টারের সিসিটিভি ফুটেজে গরমের মধ্যে চেতনের হুডি পরে ঘোরার দৃশ্য এবং সিয়ার সাথে তার ইশারার সূত্র ধরেই পুলিশ এই রহস্যের জট খোলে। বর্তমানে সিয়া ও চেতন দুজনেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।