কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ অগ্নগর্ভ। এই ঘটনাকে বাহরাইনের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘পরিকল্পিত ও বিপজ্জনক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সাথে ইরানের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে মানামা। রোববার (২৮ জুন) সকালে এক সরকারি বিবৃতিতে বাহরাইন এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়।
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, তেহরানের এই পদক্ষেপ কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বাহরাইনের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার একটি সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক নীতি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলার মাধ্যমে তেহরান নিজেই ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর অধীনে দেওয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এই আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাস এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সমস্ত অবশিষ্ট পথকে বন্ধ করে দিল। এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির জন্য এককভাবে ইরানই দায়ী থাকবে।
এদিকে শনিবার রাতের পর রোববার সকালেও বাহরাইনের রাজধানী মানামাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। মুহুর্মুহু সাইরেনের শব্দে পুরো নগরীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক জরুরি বার্তায় নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এবং সরকারি চ্যানেলের খবরের ওপর নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, কুয়েতের আলী আল সালেম এয়ারবেস এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘পঞ্চম নৌবহর’ লক্ষ্য করে ইরান ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ও ড্রোন ছুড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের খবর মেলেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি এবং মার্কিন স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
মূলত শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কর্তৃক ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিধ্বংসী বিমান হামলার পরই পাল্টা আঘাত হিসেবে এই মিসাইল ছাড়ে তেহরান। উল্লেখ্য, সপ্তাহান্তে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ড্রোন হামলার জবাবে মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে দক্ষিণ ইরানে এই বিমান হামলা চালিয়েছিল।
সময়ের আলো/কহু