রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে এক তরুণকে অপহরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে আটকে রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীসহ তিনজন। পরে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের শ্বশুর মাসুম চৌধুরী শাহবাগ থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার হওয়া আবু জোবায়েদ জয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার পড়াশোনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন পালিয়ে গেছেন। তাদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। পলাতকদের পরিচয় যাচাই ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাজিদ হাসান ও তার এক বন্ধুকে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের আটকে রেখে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ তোলা হয়। পরে সাজিদের পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণের দাবির ফোন পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর শ্বশুর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে। তবে এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আটক অবস্থায় থাকা তরুণের পকেট থেকে একজন যুবক ইয়াবাসদৃশ বস্তু বের করছেন। পুলিশ বলছে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল।
এদিকে, ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে—এমন দাবি করে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি অপহরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ায় মামলা নেওয়া হয়েছে। পলাতকদের গ্রেফতার করা গেলে পুরো চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমরা পরে জেনেছি। পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।’
সময়ের আলো/এসএকে