শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১–০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো (রাউন্ড অব ১৬) নিশ্চিত করেছে সহ–আয়োজক কানাডা। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নেয় কানাডিয়ানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যায়। প্রথম ডিহাইড্রেশন ব্রেকের আগপর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে মাঠের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখায়। তবে আক্রমণভাগের দিক থেকে অনেক বেশি সক্রিয় ছিল কানাডা। ম্যাচের ২২তম মিনিটে ডেরেক কর্নেলিউস খুব কাছ থেকে একটি জোরালো হেড করলেও তা সোজাসুজি দক্ষিণ আফ্রিকান গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের হাতে চলে যায়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে। ৪৪তম মিনিটে কানাডার ময়জে বোমবিতোর একটি চমৎকার হেড জালের দিকে যাচ্ছিল, যখন গোলরক্ষক উইলিয়ামস লাইনের বাইরে ছিলেন। তবে গোললাইনের ভেতরে দাঁড়িয়ে অসাধারণ দক্ষতায় দলকে রক্ষা করেন ডিফেন্ডার অব্রে মদিবা। একই আক্রমণে কানাডার নেওয়া পরের শটটি অবশ্য গোলরক্ষক নিজেই প্রতিহত করেন। এর কিছুক্ষণ পর যোগ করা সময়ে লারিয়াকে মুদাও ফাউল করলে পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে কানাডা।
তবে মাঠের রেফারি এবং ভিএআর উভয়েই সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কানাডার কোচ জেসি মার্শকে বিরতির বাঁশি বাজার সাথে সাথে রেফারির দিকে ছুটে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে কানাডা। ৬৫তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচান গোলরক্ষক উইলিয়ামস। কানাডার তারকা ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিডের একটি বিপজ্জনক শট তিনি পা বাড়িয়ে রুখে দেন। ফিরতি বলে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি হলেও এবার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান এমবোকাজি।
অবশেষে ম্যাচের ৯১তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ ভেঙে কানাডাকে উল্লাসে ভাসান মিডফিল্ডার স্টিভেন ইউস্টাকিও। চলতি বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় গোলের সুবাদে ১–০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জেসি মার্শের শিষ্যরা।
ঐতিহাসিক এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র টিকিট নিশ্চিত করল কানাডা, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো।
সময়ের আলো/জেডি