সাজা শেষ হলেও সৌদিতে বন্দী তেঁতুলিয়ার রফিকুল, সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সারাদেশ

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ২০১৯ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভাদ্রুবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। কিন্তু একটি

2026-06-29T11:06:19+00:00
2026-06-29T11:06:19+00:00
 
  সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
সারাদেশ
সাজা শেষ হলেও সৌদিতে বন্দী তেঁতুলিয়ার রফিকুল, সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১১:০৬ এএম 
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ২০১৯ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভাদ্রুবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনের সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে। বর্তমানে সাজা শেষ হওয়ার পরও প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা জরিমানার দায়ে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সৌদি আরবের থানায় বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে রফিকুল ইসলাম সৌদি আরবে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। ওই ঘটনায় সৌদির একটি আদালত তাকে ৩ বছরের সাজা এবং ৪০ হাজার রিয়াল জরিমানা করেন। রফিকুল ইতোমধ্যে তার ৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশে আহতদের চিকিৎসার ব্যয় যুক্ত হওয়ায় জরিমানার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

রফিকুলের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। ভিটেমাটি বিক্রি করলেও এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। রফিকুলের স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ মা এখন দিশেহারা।


স্ত্রী আশামনি জানান, ২০১৯ সালে ভিসার মাধ্যম সৌদিতে যান আমার স্বামী রফিকুল। ২০২২ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সে ঘটনায় তিন বছরের সাজা ও জরিমানা করা হয়। তিন বছর জেল খাটলেও জরিমানার অর্থ দিতে না পারায় তাকে থানায় এক বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে। আমাদের তো জরিমানা দেওয়ার মতো কোনো সম্পদ নেই। কীভাবে দেবো। স্বামীর এমন দু:সময় আর আমাদের উপর বয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক সংকট। ঠিক মতো খেতে পারছি না, মেয়েটাকে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারছি না, বৃদ্ধ শাশুড়ির চিকিৎসা করাতে পারছি না-বলেই চোখের পানি ফেলেন স্ত্রী আশামনি। এমন দৃশ্য দেখা যায় প্রবাসীর মেয়ে ও বৃদ্ধ মায়ের চোখেও।

পরিবারটি জানায়, রফিকুল কোনো ইচ্ছাকৃত অপরাধ করেননি, তবুও ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে তাকে বিদেশের মাটিতে বন্দী থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আইনি লড়াই চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

রফিকুলের মুক্তির দাবিতে পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। তারা দাবি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যদি জরিমানা মওকুফ বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে কোনো সমাধান করা যায়, তবেই রফিকুল আবার দেশে ফিরতে পারবেন। একইসঙ্গে দেশের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছেও তারা সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী জানান, রফিকুল একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ছিলেন। আজ বিপদের দিনে রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হয়ত রাষ্ট্রের কাছে বড় কিছু নয়, কিন্তু রফিকুলের পরিবারের কাছে এটি একটি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   সাজা  সৌদি  বন্দী  তেঁতুলিয়া  রফিকুল  সরকার  হস্তক্ষেপ কামনা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: