হিউস্টনের সবুজ গালিচায় তখন টানটান উত্তেজনা, গ্যালারিতে হাজারো ভক্তের হৃদস্পন্দনে সাম্বার চেনা দোল। বিশ্বকাপের মঞ্চে এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি জাপানের বিপক্ষে মাঠের লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য। তবে শেষ মুহূর্তের জাদুতে সামুরাই ব্লুকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে সেলেসাওরা, যেখানে পরের পর্বে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট।
নাটকীয় এই জয়ের রাতে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটিই বড় প্রশ্ন ছিল-সাইডবেঞ্চে পুরো ৯০ মিনিট কেটে গেলেও কেন মাঠে নামানো হলো না তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারকে? ম্যাচ শেষে সেই রহস্যেরই জট খুললেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
নেইমারকে না নামানোর নেপথ্য গল্প
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যখন মাঠের লড়াই জমে উঠেছে, তখন সাইডলাইনে গা গরম (ওয়ার্মআপ) করতে দেখা যায় নেইমারকে। প্রিয় তারকাকে প্রস্তুত হতে দেখে ২৫ মিনিটের দিকে গ্যালারি জুড়ে সমর্থকেরা তাঁর নাম ধরে স্লোগান তুলতে থাকেন। তবে কিছুক্ষণ পরই ডন কার্লো তাকে ওয়ার্মআপ থেকে ফিরিয়ে নেন এবং অন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি জানান, তাঁর মনে ভিন্ন এক পরিকল্পনা ছিল। ম্যাচ যদি অতিরিক্ত সময়ে গড়াত, তবেই কেবল নেইমারকে মাঠে নামাতেন তিনি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সেই জাদুকরী জয়সূচক গোল আসায় আর নেইমারকে নামানোর প্রয়োজন পড়েনি।
প্রথমার্ধের ধাক্কা ও দ্বিতীয়ার্ধের রূপকথা
ম্যাচের শুরুর গল্পটা অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষে ছিল না। সুসংগঠিত জাপানের দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েই বিরতিতে যায় সেলেসাওরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর চোখ ধাঁধানো হেডে ম্যাচে ফেরে ১-১ গোলের সমতা।
এরপর ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের রোমাঞ্চকর ক্ষণ ঘনিয়ে আসছিল, ঠিক তখনই ৯৫ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ব্রুনো গিমারেজের বাড়ানো মায়াবী পাস ধরে আর্সেনাল ফরোয়ার্ড মার্তিনেল্লির নিখুঁত কোনাকুনি শট আছড়ে পড়ে জাপানের জালে। গ্যালারিতে তখন বাঁধভাঙা হলদে উল্লাস, আর জাপানি শিবিরে বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস।
সময়ের আলো/আরবিএন