তিস্তায় কমছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ

পরিমল চন্দ্র বসুনিয়া, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট)

সারাদেশ

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষের

2026-06-30T05:55:07+00:00
2026-06-30T06:12:32+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
সারাদেশ
তিস্তায় কমছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ
পরিমল চন্দ্র বসুনিয়া, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৫:৫৫ এএম  আপডেট: ৩০.০৬.২০২৬ ৬:১২ এএম
সংগৃহীত ছবি
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। একদিকে বিভিন্ন রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চরাঞ্চলের মানুষের।

সোমবার বেলা ৩টার দিকে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৯৮ মিটার (স্বাভাবিক ৫২.১৫ মিটার), যা বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার কম। এর আগে রোববার রাত ৯টার দিকে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় তিস্তায়। সোমবার সকাল থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করে। তবে রোববার সন্ধ্যা থেকে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়। এতে অনেক গ্রামের চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে চলাচলের রাস্তাঘাটসহ মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসলি জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে। নদী-তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষজন বন্যা ও নদীভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তা নদীর পানি কমছে। তবু তিস্তার নিম্নাঞ্চলের মানুষদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টের পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তারপরও পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি চর, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, আদিতমারী উপজেলার চর গোবর্ধন ও মহিষখোঁচা এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের চরসহ নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিস্তার পানি এখন কমলেও যেকোনো মুহূর্তে আবারও বাড়তে পারে। ফলে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী বেষ্টিত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। ভয়াবহ বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাগুলোতে।

তিস্তা চরের বাসিন্দা সাহেদ বলেন, পানি কমলেও চরের আমন ধানের চারাগুলো এখনও তলিয়ে আছে। চলাচলের রাস্তাগুলো এখনও পানিমগ্ন। হাটবাজার করতে পারছি না, খুব কষ্টে আছি আমরা।

তিস্তাপাড়ের সোহাগ মিয়া বলেন, পানি কমতে শুরু করেছে। কিন্তু গরু-ছাগল ঘর থেকে বের করতে পারছি না। বাদাম ও ধানের চারাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। চলাচল করতে পারছি না।

কৃষক উত্তম রায় বলেন, পানি কমলেও এখনও একবুক পানি ভেঙে চলাচল করতে হচ্ছে। আবার নদীর ভাঙনও শুরু হয়েছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না।

সময়ের আলো/আরবিএন




  বিষয়:   তিস্তা  পানি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: