রাজধানী ঢাকায় পার্বত্য অঞ্চলের সুস্বাদু ও রাসায়নিকমুক্ত (কেমিক্যালমুক্ত) ফলের বিপণন, প্রদর্শন এবং সংরক্ষণে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফল সংরক্ষণের জন্য তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার গড়ে তোলা হবে।
গতকাল ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘পাহাড়ি ফল মেলা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব এসব কথা বলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কঙ্কণ চাকম, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রিজাউল করিম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মেলাটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পাহাড়ি ফল মেলা সফল করতে সবার সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। এবারের মেলায় তিন পার্বত্য জেলার উদ্যোক্তাদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গেছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। তিনি আরও বলেন, মেলা পরিচালনায় এবার যেসব ছোটোখাটো সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, আগামীতে সেগুলো সংশোধন করে আরও পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে মেলার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের পক্ষে রাঙামাটির ‘জুম ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী বিনীতা চাকমা, বান্দরবানের চংরেং ম্রো এবং খাগড়াছড়ির কংকনা চাকমা মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ফল বিক্রির চমৎকার সুযোগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বক্তব্য পর্ব শেষে মেলায় অংশ নেওয়া সেরা উদ্যোক্তাদের মাঝে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে গত ২৭ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা উদ্যোক্তারা ৩০টি স্টলে পাহাড়ের সুস্বাদু ও রাসায়নিকমুক্ত মৌসুমী ফল আম, আনারস, কাঁঠাল, কলার পাশাপাশি রক্তফল (রসকো), রাম্বুটান ও বুনো বেলের মতো বাহারি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেন। দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও কেনাকাটার মাধ্যমে এবারের পাহাড়ি ফল মেলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।
সময়ের আলো/জোই