চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর শান্তি আলোচনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলেও আজ কাতারের দোহায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর একটি পোস্টে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সেই আলোচনার পরিবেশকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতাতেই আজ দোহার এই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তবে কারিগরি আলোচনার পর থেকে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ড্রোনও বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। উভয় পক্ষই অবশ্য এই হামলার পেছনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে এবং একে পাল্টা জবাব হিসেবে দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সমঝোতা স্মারকের অধীনে দুই পক্ষই সাময়িকভাবে সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে দিতে সম্মত হয়েছিল, যা দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়ে থাকে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই প্রাথমিক চুক্তিটি মূলত আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি গভীর ও বিস্তারিত আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটগুলো নিয়ে দুই পক্ষ দরকষাকষি করবে। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কিছু পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
সময়ের আলো/কহু