যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় তেহরান সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপন এক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনকে নিশ্চিত করেছেন আইআরজিসির প্রধান। তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। তবে মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে শঙ্কা ছিল, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত আইআরজিসি এই আলোচনা ভেস্তে দিতে পারে।
এই শঙ্কা দূর করতে গত মে মাসে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের তৎকালীন পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড উদ্যোগ নেন। তিনি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরেভান বারজানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যার সঙ্গে আইআরজিসির বেশ সুসম্পর্ক রয়েছে। গ্যাবার্ড বারজানির মাধ্যমে আইআরজিসি প্রধান জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদির প্রকৃত অবস্থান জানার চেষ্টা করেন।
যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় কয়েক দিনের মধ্যে বারজানি জেনারেল ওয়াহিদির সঙ্গে একটি টেলিফোন সংলাপের ব্যবস্থা করেন। ফোনালাপে জেনারেল ওয়াহিদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইআরজিসি তেহরানের প্রতিনিধি দলের ওপর আস্থা রাখছে।
তিনি বলেন, আমি তাদের (আরাগচি ও গালিবাফ) পূর্ণ সমর্থন করছি এবং এটিই আইআরজিসির অফিসিয়াল অবস্থান। আমরা এই সংকট আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে বেশি আগ্রহী। ওয়াহিদির এই বার্তা গ্যাবার্ডের মাধ্যমে দ্রুত হোয়াইট হাউসে পৌঁছে যায়।
ওয়াহিদির ইতিবাচক বার্তার পর ট্রাম্প প্রশাসন নেচিরেভান বারজানির মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আরও বড় করার পরিকল্পনা করে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরাকের এরবিলে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজন করতে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তেহরান সরকারের আশঙ্কা ছিল, কুর্দিস্তানে ইসরাইলের শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং সেখানে তাদের প্রতিনিধিরা ইসরাইলি হামলার শিকার হতে পারেন।
এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সমঝোতা প্রক্রিয়া নতুন করে সচল করতে হোয়াইট হাউসের কাছে পুনরায় প্রস্তাব পাঠিয়েছেন কুর্দি প্রেসিডেন্ট নেচিরেভান বারজানি। জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর পারস্য উপসাগর, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ না চললেও ওই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সময়ের আলো/এসএকে