বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জার্মানির বিপক্ষে নেমেছিল লাতিন দেশ প্যারাগুয়ে। ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা মঙ্গলবার (৩০ জুন) সারা দেশে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের ঐতিহাসিক জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩০ জুনকে অনুমোদিত জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হলো।’
প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিল যদিও প্রতিপক্ষ তারকাদের দেখেই মুগ্ধ ছিলেন ম্যাচটিতে। আন্ডারডগ বাস্তবতা মেনে নিলেও জার্মানিকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে গেছে তার।
ওরল্যান্ডো গিল বলেন, ‘এটা দেখিয়ে দিয়েছে খুব দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া উচিত নয়। এটি প্রমাণ করে যে প্যারাগুয়ে বড় কিছু অর্জন করতে সক্ষম। এই সুযোগটা আসবেই, শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল।’
পেনাল্টি শ্যুটআউটে জার্মানির প্রথম পেনাল্টি নিতে আসা কাই হাভার্টজের শট ডান হাত বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন গিল। এরপর প্যারাগুয়ে নিজেদের প্রথম তিনটি পেনাল্টি সফল করে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরে নিক ভল্টেমাডের শটও ঠেকিয়ে দেন গিল। এর ফলে জয়ের জন্য প্যারাগুয়ের শেষ দুই শটের যেকোনও একটিতে গোল করলেই চলত।
ম্যাচটিতে জার্মানি বল দখলে রেখেছিল প্যারাগুয়ের দ্বিগুণেরও বেশি সময়, আর গোলের লক্ষ্যে তারা শট নিয়েছিল ২১টি, যেখানে প্যারাগুয়ের ছিল মাত্র ৭টি।
প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক গিল সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, ‘এটা যেন একটা ভৌতিক সিনেমার মতো ছিল। জার্মান খেলোয়াড়রা সব জায়গা থেকে হঠাৎ হাজির হচ্ছিল। এখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ম্যানুয়েল নয়্যার একজন বিশ্বমানের গোলরক্ষক। আমি তার সঙ্গে শুটআউটে অংশ নিয়েছি, সেও একটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছে। তার মতো একজন আদর্শ খেলোয়াড়ের প্রতি আমার শুধু সম্মানই আছে। এখন ঠান্ডা মাথায় বসে আমরা কী অর্জন করেছি, তা বিশ্লেষণ করব। আমরা ১২০তম মিনিট পর্যন্ত টিকে থাকতে পেরেছি, আর শুটআউটে ভাগ্যও আমাদের পাশে ছিল।’
সময়ের আলো/মহু