জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেলেও ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে ছিল না কোনো উদ্বেগ বা অস্থিরতা। বরং কোচ কার্লো আনচেলত্তির শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী বার্তাই দ্বিতীয়ার্ধে দলের পারফরম্যান্স বদলে দেয় বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক ক্যাসেমিরো।
রোববার (২৯ জুন) হিউস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ব্রাজিল। ম্যাচে সমতাসূচক গোল করেন ক্যাসেমিরো, আর যোগ করা সময়ের শেষদিকে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোল এনে দেয় নাটকীয় জয়।
ম্যাচ শেষে ক্যাসেমিরো বলেন, বিরতিতে আনচেলত্তি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকার পরামর্শ দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, পুরো প্রথমার্ধে বলের দখল ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের কাছেই। জাপান একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েই গোল করেছে, কিন্তু সেটি দলের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করার মতো কিছু নয়।
অধিনায়কের ভাষ্য, কোচ খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষের ওপর একই ধরনের চাপ ধরে রাখতে এবং আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বলেন। সেই নির্দেশনাই দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয় ব্রাজিল, যার ফল হিসেবে আসে সমতা এবং শেষ পর্যন্ত জয়।
আরও পড়ুন
ক্যাসেমিরোর মতে, এই ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মানসিক দৃঢ়তা। গোল হজম করার পরও দল নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি এবং শেষ বাঁশি পর্যন্ত জয়ের জন্য লড়াই করেছে।
ম্যাচ শেষে তিনি বদলি খেলোয়াড়দের অবদানও আলাদাভাবে তুলে ধরেন। ক্যাসেমিরো বলেন, বড় আসরে শুধু শুরুর একাদশ নয়, বেঞ্চের ফুটবলারদের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এন্দ্রিক মাঠে নেমে আক্রমণে গতি যোগ করেন, আর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে দলের সাফল্য নিশ্চিত করেন। তরুণ রায়ানের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, রাফিনহার অনুপস্থিতি অনুভব করতে দেননি এই ফুটবলার।
ম্যাচের শুরুতে সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। তবে বিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ক্যাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরে। এরপর একের পর এক আক্রমণে জাপানের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে সেলেসাওরা। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মার্টিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এএডি/