গাইবান্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ বা হুল দিবসের ১৭১তম বার্ষিকী। জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটার মোড় ও বাগদাফার্ম এলাকায় মঙ্গলবার পৃথক পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে সাঁওতাল সম্প্রদায়। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতারা পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ভূমি ফিরিয়ে দেওয়া এবং ২০১৬ সালের হামলায় নিহত তিন সাঁওতালের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান।
দুপুরে বাগদাফাম এলাকায় সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোভাযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাফায়েল হাঁসদা, আব্দুল আজিজ, বিটিশ সরেন, আনিসুর রহমান ময়নুল, আমিন হেমরম, অলিভিয়া হেমরম, ফিলিপ বাসকে, বিমল বেসরা, রিপন বেসরা জয়, সাহেব মুরমু, অঞ্জলি মুরমু ও সিউলি টুডুসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও সাঁওতালরা আজও তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাশাপাশি তিন সাঁওতালকে হত্যা করা হলেও আজ পর্যন্ত সেই ঘটনার বিচার হয়নি। অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাপ-দাদার আমলের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান বক্তারা।
একই দিন কাটা মোড় এলাকায় সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির অপর একটি অংশ পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে। এতে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রদীপ প্রজ্বলন, শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সুফল হেমরমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আমিনুল ফরিদ, আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন, সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম, যোজ্ঞেশ্বর বর্মন, বার্নাবাস টুডু, গনেশ মুরমু, জাফরুল ইসলাম প্রধান, আজমল হোসেন, আতাউর রহমান, চামিল হেমরম, রুমিলা কিসকু ও মাহালয়াসহ আরও অনেকে।
এই কর্মসূচি থেকেও বক্তারা ভূমি ফিরিয়ে দেওয়া ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের একই দাবি তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রথম সংগঠিত বিদ্রোহ ঘোষণা করে, যা ইতিহাসে সাঁওতাল হুল নামে পরিচিত। সেই বিদ্রোহে সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবসহ অসংখ্য সাঁওতাল নেতা প্রাণ উৎসর্গ করেন। তাঁদের সেই আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর ৩০ জুন সারা দেশে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী হুল বা বিদ্রোহ দিবস পালন করে আসছে।
সময়ের আলো/আতা