চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়ের প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার বড়দারোগারহাট, বাড়বকুণ্ড, কুমিরা, ভাটিয়ারী, সলিমপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। একপর্যায়ে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেওয়া হলে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত নেতাকর্মী বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বের করেন। পরে কয়েকটি স্থানে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এতে চট্টগ্রামমুখী ও ঢাকামুখী উভয় লেনে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ, রোগীবাহী যান এবং বিমানবন্দরগামী যাত্রীরা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী প্রবাসীরা। সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, ফেনী, নোয়াখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদেশগামী অনেক যাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও মহাসড়কে আটকে পড়েন। এতে অনেকের ফ্লাইট মিস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আটকে পড়া যাত্রীদের স্বজনরা জানান, প্রবাসীদের অনেকেই ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ধরতে না পারলে চাকরিতে সময়মতো যোগদান ব্যাহত হতে পারে। এতে চাকরি হারানোর ঝুঁকির পাশাপাশি নতুন করে বিমান টিকিট কিনতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপগামী ফ্লাইটের নতুন টিকিট কিনতে এক লাখ টাকা বা তারও বেশি খরচ হতে পারে বলে জানান তারা।
এক প্রবাসীর স্বজন বলেন, একজন প্রবাসীর সঙ্গে পুরো পরিবারের স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যদি একটি ফ্লাইট মিস হয়, তাহলে শুধু একজন নয়, পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আন্দোলনকারীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকই। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন সবার গণতান্ত্রিক অধিকার; তবে অ্যাম্বুলেন্স, গুরুতর অসুস্থ রোগীবাহী যান এবং বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের জন্য অন্তত একটি জরুরি করিডর খোলা রাখা উচিত ছিল।
এক যাত্রী বলেন, আপনারা আন্দোলন করুন, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স ও বিমানবন্দরগামী গাড়িগুলো যেতে দিন। একটি ফ্লাইট মিস হওয়া মানে অনেক ক্ষেত্রে একটি পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়া।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দাবি করেন, জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত, ত্যাগী ও দীর্ঘদিন কারাভোগ করা নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তারা বলেন, জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে দেওয়া এ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে তাকে শপথ গ্রহণের সুযোগ দিয়ে নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের পথ সুগম করার দাবি জানান তারা।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসলাম চৌধুরী বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না হলে রাজনীতিবিদদের একটু মন খারাপ তো হবেই। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর আমরা রিভিউ আবেদন করব। আশা করি, চূড়ান্ত বিজয় আমাদেরই হবে।
সোমবার (২৯ জুন) ঋণখেলাপিসংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেন। ফলে তিনি আপাতত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম ও আসনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় জরুরি সেবার যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স এবং বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
সময়ের আলো/আতা