ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বা ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ বাতিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ

2026-07-01T09:23:11+00:00
2026-07-01T09:23:11+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বা ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ বাতিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আদালতের ৯ সদস্যের বেঞ্চ ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত অভিবাসন নীতি বাতিল করে ঐতিহাসিক রায় দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই আদেশে বলা হয়েছিল— যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নথিপত্রহীন (অবৈধ) অভিবাসী কিংবা সাময়িক ভিসায় (যেমন- স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক ভিসা) থাকা বিদেশিদের সন্তানরা দেশটিতে জন্মগ্রহণ করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। ট্রাম্পের এই কড়া অভিবাসন নীতিকে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে মূল রায়টি লেখেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা শত বছরের পুরোনো মার্কিন আইন পুনর্মূল্যায়নের পক্ষে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এই সংশোধনীর প্রণেতারা এ দেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক মুক্ত মানুষের জন্য নাগরিকত্বের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছি।

১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক’ মামলার নজির টেনে আদালত স্পষ্ট করে দেন, আমেরিকার মাটিতে জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশুই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। এই রায়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আদালতের উদারপন্থী বিচারকদের পাশাপাশি ট্রাম্পের সময়েই নিয়োগ পাওয়া দুই রক্ষণশীল বিচারক অ্যামি কোনি ব্যারেট ও ব্রেট কাভানো একমত পোষণ করেন। অন্যদিকে, বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গোরসুচ ট্রাম্পের আদেশের পক্ষে নিজেদের ভিন্নমত (ডিসেণ্ট) তুলে ধরেন।

আদালতের এই রায়কে বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘দেশের জন্য খুবই খারাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি কংগ্রেসের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কংগ্রেসের উচিত আজ থেকেই আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অন্যায় এই ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ বন্ধ করার আইন প্রণয়নে কাজ শুরু করা। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’ তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর সাধারণ কোনো আইন পাস করে এটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, এর জন্য মার্কিন সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে যা অত্যন্ত কঠিন।

এদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-সহ দেশটির মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলো সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এই রায়ের মাধ্যমে আমেরিকার একটি মৌলিক ও ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা পেল।

মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই আদেশ বহাল থাকলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতো। এর ফলে ২০৪৫ সালের মধ্যে দেশটির নথিপত্রহীন জনসংখ্যা আরও প্রায় ২৭ লাখ বৃদ্ধি পেত, যা সমাজে একটি স্থায়ী ও বিশাল সুবিধাবঞ্চিত ‘রাষ্ট্রহীন’ শ্রেণির জন্ম দিত। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে পর্যটক, অস্থায়ী কর্মী এবং নথিপত্রহীন অভিবাসীদের সন্তানরা আগের মতোই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হিসেবে পূর্ণ অধিকার ভোগ করবে।


সময়ের আলো/কহু


  বিষয়:   ট্রাম্প  জন্মসূত্র  নাগরিকত্ব  বাতিল 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: