আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, ‘এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই ফাইনাল, আর বিশ্বকাপের প্রকৃত রোমাঞ্চ শুরু হচ্ছে এখান থেকেই।’
গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। এবার নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা কোচ এই বার্তা দিয়েছেন।
আগামী শুক্রবার (৩ জুলাই) শেষ বত্রিশের ম্যাচে আফ্রিকার বিস্ময় কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। আর এই ম্যাচ দিয়েই সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট ও স্কালোনির রণকৌশল।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম লক্ষ্যটা বেশ পরিষ্কার ছিল, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং নকআউটের জন্য দলের মূল কাঠামোর ক্লান্তিহীন একটা ভিত তৈরি করা। স্কালোনির শিষ্যরা সেই লক্ষ্য পূরণ করেছেন শতভাগ নম্বর পেয়ে। গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচই জিতেছেন অনায়াসে, খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়তে দেননি এবং দলের ব্যাক-আপ বেঞ্চটাকেও ঝালিয়ে নিয়েছেন।
কিন্তু স্কালোনি নিজেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, সেই টুর্নামেন্ট এখন অতীত। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন এই টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য পরের কোনো ম্যাচ বা পয়েন্টের হিসাব-নিকাশ থাকবে না। প্রতিটি ম্যাচই একেকটি ফাইনাল।
প্রথম পর্বে স্কালোনি দলের তারকাদের বিশ্রাম দিতে পেরেছিলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। কিন্তু নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষ এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই দল সাজাতে হবে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তি নিয়েই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
মাঠের বাইরের পরিকল্পনাতেও স্থায়িত্ব খুঁজছে আর্জেন্টিনা দল। পুরো টুর্নামেন্টে ক্যানসাসকেই নিজেদের মূল ঘাঁটি বানিয়ে প্রস্তুতি সারছে তারা। কোয়ার্টার ফাইনাল টপকাতে পারলে- তবেই কেবল শেষ চার ও ফাইনালের জন্য দলটি আটলান্টায় পাড়ি জমাবে।
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দল এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। তবে, স্কালোনির জন্য একমাত্র মধুর সমস্যা এখন দলের আক্রমণভাগ নিয়ে। শুক্রবারের ম্যাচে মেসির পাশে কে খেলবেন- লাউতারো মার্তিনেজ নাকি হুলিয়ান আলভারেজ? দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লাউতারো অবশ্য এই দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন। চোট কাটিয়ে দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো অনুশীলনে ফিরলেও কেপ ভার্দে ম্যাচে তার খেলা নিয়ে এখনও কিছুটা সংশয় রয়েছেন।
নকআউট পর্বের ম্যাচে বড়-ছোট দল বলে কিছু নেই, যেখানে একটা ছোট ভুল, একটা সেট-পিস কিংবা টাইব্রেকার পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়ের দেওয়া ধাক্কাই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার সামনে কেপ ভার্দে হয়ত খুব বড় নাম নয়, তবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক এই আফ্রিকান দলটি। স্কালোনির আর্জেন্টিনা ভালো করেই জানে, বিশ্বকাপের ইতিহাস এমন সব ট্র্যাজেডিতে ভরা, যেখানে অতীত পারফরম্যান্সের কোনো মূল্য থাকে না, যদি না নির্দিষ্ট দিনে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেওয়া যায়।
সময়ের আলো/মহু