ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে (আইডিএফ) তীব্র জনবল সংকটের মধ্যেই কট্টরপন্থী উগ্র-অর্থোডক্স (হারোদি) দলগুলোর চাপের মুখে বিতর্কিত ‘মৌলিক আইন: তোরাহ্ পাঠ’ বিলটি প্রথম পাঠে পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেট। বুধবার (১ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ৬৩ এবং বিপক্ষে ৫৩টি ভোট পড়ে। খোদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বয়ং নেসেট অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
সমালোচকদের মতে, এই বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো কট্টরপন্থী ইহুদি তরুণদের সামরিক বাহিনীতে যোগদান (বাধ্যতামূলক সেনা দলভুক্তি) থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া। বিলটি পাস হলে তারা সেনাবাহিনীতে সেবা না দিয়েও পূর্বের ন্যায় সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
ক্ষমতাসীন জোটের শরিক হারোদি দলগুলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল, তাদের দাবি মেনে দ্রুত আইন পাস না করা হলে তারা জোটের সব ভোটাভুটি বয়কট করবে এবং আইনি প্রক্রিয়া স্থবির করে দেবে। এই রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বিলটি দ্রুত পাসের আশ্বাস দেন এবং নেসেটের হাউস কমিটিতে তিন দিনের ম্যারাথন বৈঠকের মাধ্যমে বিলটিকে দ্রুত চূড়ান্ত অধিবেশনের টেবিলে আনা হয়।
বিলটি উত্থাপন করেন ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পার্টির আইনপ্রণেতা মোশে গাফনি। ভোটাভুটির আগে তিনি নেসেটে দাবি করেন, রাজনীতি দূরে রাখলে ইহুদি বা অ-ইহুদি কোনো নেসেট সদস্যই এই বিলের বিরোধিতা করতে পারতেন না। এটি রাষ্ট্র গঠনের সময়ই পাস হওয়া উচিত ছিল। ইসরায়েলের কোনো লিখিত সংবিধান না থাকায় ‘মৌলিক আইন’ বা ‘বেসিক ল’ দেশটির সর্বোচ্চ আইনি মর্যাদা ভোগ করে। প্রস্তাবিত আইনে তোরাহ্ পাঠকে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও ইহুদিদের ঐতিহ্যের একটি মৌলিক মূল্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, খোদ নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরেই এই বিল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। লিকুদ পার্টির ড্যান ইলুজ, ইউলি এডেলস্টেইন এবং ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শারেন হাসকেলসহ চারজন জোট সদস্য এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অবিতাল সোমপোলিনস্কিও এই বিলের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক প্রভাব ও অস্পষ্টতা নিয়ে হাউস কমিটিকে সতর্ক করেছিলেন।
বিলটি প্রথম পাঠে পাস হওয়ার পর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতারা। টুগেদার পার্টির প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, নতুন সরকার গঠন হওয়া মাত্রই এই লজ্জাজনক আইন বাতিল করা হবে। যখন দেশের প্রতিরক্ষায় ২০ হাজার অতিরিক্ত সেনা প্রয়োজন, তখন নেতানিয়াহু-স্মোটরিচ জোট জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আরেক প্রভাবশালী বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এটিকে দেশকে পঙ্গু করার এবং সুকৌশলে সেনা এড়ানোর পথ তৈরি করার শামিল বলে অভিহিত করেছেন।
আইন হিসেবে চূড়ান্ত রূপ পেতে বিলটিকে এখন আবারও হাউস কমিটিতে পর্যালোচনার পর নেসেটের আরও দুটি পাঠে (দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠ) সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হতে হবে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
সময়ের আলো/কহু