অক্ষত ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটির জোরেই দোহায় দরকষাকষিতে অনড় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা ভয়াবহ বিমান হামলায় সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও তেহরান তার আত্মবিশ্বাসী ও অনড় অবস্থান

2026-07-02T13:54:52+00:00
2026-07-02T13:54:52+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অক্ষত ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটির জোরেই দোহায় দরকষাকষিতে অনড় ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৪ পিএম 
ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা ভয়াবহ বিমান হামলায় সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও তেহরান তার আত্মবিশ্বাসী ও অনড় অবস্থান ধরে রেখেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন দফার দরকষাকষিতে ইরানের এই অনমনীয় মনোভাবের মূল কারণ— প্রকাশ্যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেলেও দেশটির কৌশলগত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক, ড্রোন সক্ষমতা এবং দ্রুত পুনর্গঠনের ক্ষমতা এখনও অনেকটাই অক্ষত রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন দফা আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। চার মাসেরও বেশি সময় আগে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের ভয়াবহ বিমান হামলার পর এই প্রথম দুই পক্ষ সরাসরি আলোচনায় বসল। এর আগে গত জুন মাসের মাঝামাঝিতে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করলেও সামরিক উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি।

৪০ দিনেরও কম সময় স্থায়ী এই যুদ্ধে ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা প্রায় ১০ হাজার ৮০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, যুদ্ধের শুরুতেই তারা ইরানের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং ২৫০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপার গত মে মাসে মার্কিন কংগ্রেসে জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ প্রতিরক্ষা শিল্পের ৮৫ শতাংশের বেশি এবং ১৫৫টিরও বেশি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। হামলায় ইরানের ৭০ শতাংশ ইস্পাত উৎপাদন ও ৮৫ শতাংশ পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি সক্ষমতা অচল হয়ে পড়েছে, যা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে কয়েক বছর সময় ও শত শত কোটি ডলার লেগে যাবে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মনে করেন এই আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে না, তবে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাদের পরবর্তী প্রধান লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট)। এর জবাবে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমাদের জনগণ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেয়া হবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও জানিয়েছেন, তাদের সেনাবাহিনী শুধু যুদ্ধবিমান মোতায়েনের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ব্যাপক হামলার পরও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনেক ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এখনও সচল রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আশপাশের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইতিমধ্যে আংশিক বা পূর্ণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ইরান শুরুতেই তার সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত শেষ না করে তা সংরক্ষণ করেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ দাবি করেছেন, যুদ্ধের পর দেশে ড্রোন উৎপাদন উল্টো ১০ গুণ বেড়েছে। এমনকি যুদ্ধ চলাকালে তারা ২০০টির বেশি শত্রু ড্রোন এবং অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। বড় যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুতগতির ছোট নৌকা ও মিসাইল বোট দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে এখনো একচ্ছত্র চাপ ধরে রেখেছে তেহরান। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ এখনো সুরক্ষিত ও উদ্ধারযোগ্য রয়েছে।

সময়ের আলো/কহু


  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  যুক্তলাষ্ট্র  ইসরায়েল 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: