ওজন কমাতে ডায়েট অনেকের কাছেই কার্যকর উপায় হলেও, অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ডায়েট করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন তারকা কঠোর ডায়েটের কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন তানজিন তিশা, মারজিয়া, অ্যান হ্যাথাওয়ে, ক্রিশ্চিয়ান বেল, টম হ্যাঙ্কস, জ্যারেড লেটো, বিদ্যা বালান ও বিদ্যা সিনহা মীম।
তারকাদের ফিটনেস দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হন। তবে পর্দার আড়ালে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তারা কী ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, সে গল্প অনেকেরই অজানা।
২০২৩ সালে অভিনেত্রী তানজিন তিশা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানা যায়, দীর্ঘদিন কঠোর ডায়েট এবং মানসিক চাপের কারণে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাকে ডায়েট বন্ধ করে স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন।
হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে ‘লা মিজেরাবল’ ছবির চরিত্রের প্রয়োজনে অত্যন্ত কম ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেছিলেন। পরে তিনি জানান, সেই সময় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
বাংলাদেশি অভিনেত্রী মারজিয়া ২০১৬ সালে ‘মুসাফির ২’ সিনেমার জন্য অল্প সময়ে ১০ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ক্র্যাশ ডায়েট শুরু করেন। শুধু ফল ও সবজি খেয়ে দিন কাটানোর কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি স্বীকার করেন, পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল ছিল।
অন্যদিকে বিদ্যা সিনহা মীম ওজন কমাতে ভিন্ন পথ বেছে নেন। করোনা মহামারির পর ওজন বেড়ে যাওয়ায় তিনি প্রায় চার মাস একজন ট্রেইনারের তত্ত্বাবধানে সুষম খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ১০ কেজি ওজন কমান। শর্টকাট পদ্ধতির বদলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ছিল তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বারবার কঠোর ডায়েটের কারণে শারীরিক দুর্বলতা ও হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগেছেন। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস।
হলিউড অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেল ‘দ্য ম্যাশিনিস্ট’ ছবির জন্য প্রায় ২৮ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। পরে তিনি জানান, এই কঠোর ডায়েটের কারণে দীর্ঘ সময় তীব্র ক্লান্তি ও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগতে হয়েছে।
আরেক হলিউড তারকা জ্যারেড লেটো বিভিন্ন চরিত্রের প্রয়োজনে বারবার ওজন বাড়ানো-কমানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেছেন, শরীরের জন্য এ ধরনের ওঠানামা অত্যন্ত ক্ষতিকর।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন টম হ্যাঙ্কস। ‘কাস্ট অ্যাওয়ে’ ছবির জন্য ওজন কমানো এবং পরে আবার বাড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সতর্ক করে বলেন, খুব দ্রুত শরীরের ওজন পরিবর্তন করা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তারকাদের এসব অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, দ্রুত ওজন কমানোর আশায় কঠোর বা ক্র্যাশ ডায়েট শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে ওজন কমানোই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ