নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের ওপর পাথর বোঝাই একটি ট্রাক উল্টে পড়ে শামীমা আক্তার সেতু নামের এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট বোন মিতু গুরুতর আহত হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের নলদী গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেতু (১৪) নলদী গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজুর মোল্যার বড় মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহত মিতু (১০) তার ছোট বোন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার শেষে প্রতিদিনের মতোই ঘুমিয়ে ছিল দুই বোন সেতু আর মিতু। রাত ১২টার দিকে একটি পাথর বোঝাই ট্রাক ভুলবশত নলদী গ্রামে হাফিজুর মোল্যার বাড়ির সামনের সরু গ্রামীণ রাস্তায় ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি উল্টে সরাসরি হাফিজুর মোল্যার বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘুমন্ত দুই বোন ভারী পাথরের নিচে চাপা পড়ে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শামীমা আক্তার সেতুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ছোট বোন মিতুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী আঘাতের কারণে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর শিশুর চিকিৎসা চলছে।
এদিকে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো নলদী গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করেছে।
সময়ের আলো/জোই