২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ও প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল।
গুরুত্বপূর্ণ এই নকআউট ম্যাচে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তার উইনিং কম্বিনেশনের ওপরই পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয় পাওয়া একাদশটিই আজ অপরিবর্তিত রেখেছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্প্যানিশদের গোলবারের নিচে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকছেন উনাই সিমন।
রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, এমেরিক লাপোর্তে ও মার্ক কুকুরেয়া। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ থাকবে রদ্রি, পেদ্রি ও দানি ওলমোর পায়ে। আর আক্রমণভাগে পর্তুগালের রক্ষণ ভাঙতে প্রধান অস্ত্র হিসেবে থাকছেন তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল ও আলেক্স বায়েনা।
অন্যদিকে, শেষ আটে যাওয়ার মিশনে পর্তুগালের শুরুর একাদশে বড় চমক এনেছেন কোচ। আক্রমণভাগকে আরও ধারালো ও গতিশীল করতে প্রথম একাদশে ফেরানো হয়েছে তারকা ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্সকে, যা ম্যাচের আগে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পর্তুগিজদের গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্বে যথারীতি আছেন দিয়োগো কস্তা। রক্ষণভাগে রুবেন দিয়াস ও রেনাতো ভেইগার সঙ্গে থাকছেন জোয়াও কানসেলো ও নুনো মেন্দেস। মাঝমাঠে বলের জোগান দেওয়া ও খেলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সামলাবেন জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ। আর আক্রমণভাগে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও পেদ্রো নেতোর সঙ্গে জুটি বাঁধবেন জোয়াও ফেলিক্স।
রোনালদোর জন্য এই আসরটি এক আবেগঘন অধ্যায়। ৪১ বছর বয়সে এসে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে এটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— আজ কি রূপকথার মতো কোনো সমাপ্তির দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাবেন সিআরসেভেন, নাকি স্পেনের অপ্রতিরোধ্য ফর্মের সামনে আজ রাতেই থমকে যাবে তার বিশ্বকাপ মিশন।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে দুই দলের অতীত লড়াইয়ের ইতিহাস সমানে সমান। আগের ৫টি সাক্ষাতে দুই দলই জিতেছে ১টি করে ম্যাচ এবং বাকি ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে স্পেনের জন্য এবারের আসরে রয়েছে এক অনন্য রেকর্ডের হাতছানি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা ৬ ম্যাচে ক্লিন শিট বা কোনো গোল হজম না করার মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে তারা।
বিপরীতে পর্তুগালের সামনে সুযোগ রয়েছে প্রথমবার টানা দুটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করার। দুই দলের এই রণকৌশল আর মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন পরাশক্তি শেষ হাসে হাসে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব।
সময়ের আলো/জেডি