২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে একাই গুঁড়িয়ে বিদায় করে দেওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই প্রশ্ন— নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড কি সত্যিই মানুষ, নাকি ল্যাবরেটরিতে তৈরি কোনো বিশেষ ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ার্ড’ অ্যান্ড্রয়েড বা রোবট? ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির দানবীয় শরীর, চোখের পলকে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে যাওয়ার গতি আর গোলপোস্টের সামনে যান্ত্রিক নিখুঁত কার্যকারিতার কারণে ২৫ বছর বয়সি এই ফুটবলারকে ভিন্ন গ্রহের কেউ মনে হতেই পারে।
তবে মাঠের এই অতিমানবীয় সাফল্যের পেছনে শুধু জিনগত সুবিধাই নয়, বরং রয়েছে নিজের শরীর থেকে সর্বোচ্চ আউটপুট বের করে নেওয়ার এক কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাত্রা।
আধুনিক স্পোর্টস নিউট্রিশনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হালান্ড প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার ক্যালরি আদিম ও প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ করেন। ‘হালান্ড: দ্য বিগ ডেসিশন’ প্রামাণ্যচিত্রে তিনি প্রকাশ করেন, তার প্রধান খাদ্য স্থানীয় কসাইয়ের কাছ থেকে সংগ্রহ করা উন্নতমানের গরুর হৃৎপিণ্ড ও কলিজার মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংস।
এর পাশাপাশি ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত বিশেষ ফিল্টার করা পানি এবং কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের মিশ্রণে তৈরি নিজস্ব 'ম্যাজিক পোশন' বা জাদুকরী পানীয় তাঁর ক্লান্তিহীন শক্তির প্রধান উৎস, যা বাস্তব জীবনের ‘পপাই দ্য সেইলর ম্যান’-এর কথাই মনে করিয়ে দেয়।
এই স্ট্রাইকারের সেরা পারফরম্যান্সের আরেকটি প্রধান নিয়ামক হলো দৈনিক ১০ থেকে ১১ ঘণ্টার নিখুঁত ঘুম। ঘুমের গুণগত মান ও মেলাটোনিন হরমোনের প্রাকৃতিক নিঃসরণ বাড়াতে ঘুমাতে যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে তিনি কৃত্রিম নীল আলো প্রতিরোধী কমলা রঙের চশমা পরিধান করেন। ফুসফুসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও গভীর ঘুমের সময় হৃদ্স্পন্দনের তারতম্য ঠিক রাখতে তিনি ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ টেপ লাগিয়ে কেবল নাক দিয়ে শ্বাস নেন এবং শোয়ার ঘরের সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখেন।
হালান্ডের অবিশ্বাস্য শারীরিক ক্ষমতা ও ক্ষিপ্রতার পেছনে রয়েছে কিশোর বয়সের দৈনিক ৩০০ পুশ-আপ, ১ হাজার সিট-আপ এবং পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে দৌড়ানোর মতো কঠিন স্প্রিন্ট ট্রেনিং। পেশির দ্রুত সতেজতা ও ল্যাকটিক অ্যাসিড দূর করতে তিনি বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড (বংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা) ব্যয়ে একটি বিশেষ ‘ক্রায়োথেরাপি চেম্বার’ স্থাপন করেছেন।
মাঠের খেলাকে গাণিতিক হিসাবে দেখা এই ফুটবলার মানসিকভাবেও ইস্পাতকঠিন, যার প্রমাণ মেলে চলতি বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর তাঁর চটজলদি মন্তব্যে।
সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের পরামর্শে লম্বা চুল রাখা হালান্ড মূলত আধুনিক বিজ্ঞান ও চিরন্তন কঠোর পরিশ্রমের এক অনন্য মেলবন্ধন, যা তাকে সাধারণ অ্যাথলেটের গণ্ডি পেরিয়ে এক আধুনিক অনন্য ফুটবলারে পরিণত করেছে।
সময়ের আলো/জেডি