ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অধরা বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মহাকাব্যিক স্বপ্ন থমকে গেল! পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে স্পেন। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় গোলে পর্তুগিজদের স্তব্ধ করে দেয় স্প্যানিশরা। ৪১ বছর বয়সে নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চের বিদায়ি এপিটাফ কি তবে এভাবেই লেখা হলো, তা নিয়ে মাঠজুড়ে এখন আবেগঘন পরিবেশ।
ম্যাচের মূল আকর্ষণ এবং চূড়ান্ত ফয়সালা আসে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে (যোগ করা সময়ের ১ম মিনিট)। যখন ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে গড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই স্পেনের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা তারকা মিকেল মেরিনো।
ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে পর্তুগিজ ডিফেন্স ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার। আর এই এক গোলের ব্যবধানেই পর্তুগালকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে শেষ আটে পা রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
এর আগে প্রথমার্ধে দুই দলই গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায়। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে অবশ্য দুই পরাশক্তিই বেশ কিছু সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে ম্যাচের ৯ মিনিটে স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল পর্তুগিজ গোলরক্ষককে একেবারে একা পেয়েও বল পোস্টের বাইরে মারলে অবিশ্বাস্য এক সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে আবার স্পেনের জোড়া আক্রমণ রুখে দিয়ে পর্তুগালের ত্রাতা হন গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। রদ্রির পাস থেকে লামিন ইয়ামালের নেওয়া জোরালো শট প্রথমে প্রতিহত করার পর, ফিরতি বলে আলেক্স বায়েনার শটও দুর্দান্ত ডাবল সেভে নস্যাৎ করে দেন কস্তা।
অন্যদিকে, পর্তুগালের হয়ে পুরো ম্যাচেই আক্রমণ তৈরিতে নিচে নেমে এবং বক্সের ভেতর দারুণ সক্রিয় ছিলেন অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের ১২ মিনিটে তাঁর নেওয়া একটি চমৎকার জোরালো শট রুখে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। এরপর ৩৮ মিনিটে রোনালদোর তৈরি করা আক্রমণ থেকে জোয়াও ফেলিক্সের হেড সিমন ফিরিয়ে দেওয়ার পর, বক্সের ভেতর চমৎকার এক অ্যাক্রোবেটিক শট নেন সিআরসেভেন। কিন্তু এবারও উনাই সিমন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রোনালদোকে নিরাশ করেন।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে হাইড্রেশন বিরতির আগ পর্যন্ত কোনো দলই ডেডলক ভাঙতে পারেনি। এর আগে ৫৬ মিনিটে পর্তুগাল শিবিরে বড় ধাক্কা লাগে, যখন স্পেনের তরুণ তুর্কি ইয়ামালকে দারুণভাবে সামলানো ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার বদলে নামানো হয় নেলসন সেমেদোকে। পরে আক্রমণের ধার বাড়াতে ফেলিক্স ও কানসেলোকে তুলে নিয়ে রাফায়েল লিয়াও এবং দিয়োগো দালতকে মাঠে নামান পর্তুগিজ কোচ।
তবে স্পেনের জমাট রক্ষণভাগের সামনে শেষ পর্যন্ত আর কোনো কৌশলেই গোলমুখ খুলতে পারেনি পর্তুগাল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাস সাক্ষী হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এক বেদনাবিধুর বিদায়ের।
সময়ের আলো/জেডি