একজন কম নিয়েও দমে যায়নি ইংল্যান্ড। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিকেই শক্তিতে পরিণত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াকু চরিত্রের আরেকটি দৃষ্টান্ত গড়েছে টমাস টুখেলের দল। স্বাগতিক মেক্সিকোর ৮৭ হাজারের বেশি সমর্থকে ঠাসা আজতেকা স্টেডিয়ামে দুই গোলের লিড নেওয়ার পর লাল কার্ডে প্রায় ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হলেও নিয়ন্ত্রণ হারায়নি ইংল্যান্ড।
জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোল, হ্যারি কেইনের পেনাল্টি থেকে করা গোল এবং জর্ডান পিকফোর্ডের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে ভর করে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। প্রথম মিনিটেই ডেক্লান রাইস হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের বড় অংশে ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করেছে ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের বড় দলগুলো যেমন সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, টুখেলের দলও ঠিক সেটিই করেছে।
৩৭ মিনিটে পিকফোর্ডের দ্রুত থ্রো থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রস ডাইভিং হেডে জালে জড়ান জুড বেলিংহ্যাম। স্বাগতিকরা ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এক মিনিট পর আবারও আঘাত হানে ইংল্যান্ড। হিলবার্তো মোরার ভুল থেকে বল দখল করে আক্রমণে উঠে হ্যারি কেইনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বেলিংহ্যাম। দুই গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি মেক্সিকো। ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনোনেস ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরান স্বাগতিকদের।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও কঠিন হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের জন্য। ৫৪ মিনিটে জ্যারেল কুয়ান্সা ভিএআরের সিদ্ধান্তে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে প্রায় ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় তাদের। তবে একজন কমে যাওয়ার পরও কেবল রক্ষণে গুটিয়ে যায়নি ইংল্যান্ড। বরং সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে মেক্সিকোকে চাপে রাখে। ৫৮ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে হ্যারি কেইন ব্যবধান ৩-১ করেন। এটি হ্যারি কেইনের এবারের বিশ্বকাপের ষষ্ঠ গোল।
অবশ্য ছয় মিনিট পর পেনাল্টি থেকেই গোল শোধ করে ব্যবধান ৩-২ করে রাউল হিমেনেস। এরপর পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল মেক্সিকো। কিন্তু শেষ তৃতীয়াংশে কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাব, ইংল্যান্ডের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং পিকফোর্ডের নির্ভরযোগ্য গোলকিপিং স্বাগতিকদের হতাশই করে। এদসন আলভারেস, সান্তিয়াগো হিমেনেস ও আলভারো ফিদালগো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা ১১ মিনিটেও মেক্সিকোর চাপ অব্যাহত ছিল। তবে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত নিজেদের পরিকল্পনা থেকে একটুও সরে যায়নি ইংল্যান্ড। প্রতিকূল পরিবেশ, একজন কম নিয়ে দীর্ঘ সময় খেলা এবং স্বাগতিকদের লাগাতার আক্রমণ সবকিছুর জবাব দিয়েছে সংগঠিত রক্ষণ, কার্যকর পাল্টা আক্রমণ ও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তায়।
এই জয় ইংল্যান্ডকে শুধু শেষ আটেই তোলেনি, টুর্নামেন্টে তাদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ টসাম টুখেল ফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন। টুখেল বলেন, ‘আমি শুধু দলের মানসিকতা ও মনোভাব নিয়ে গর্বিত।
শেষ বত্রিশ, শেষ ষোলো টুর্নামেন্টের এমন একটা ধাপ যেখানে জয়ের পথ খুঁজে নিতে হবে। অদম্য মানসিকতা ও মনের জোর দিতে আমরা সেটা করেছি। আমাদের সামনে ছুড়ে দেওয়া প্রতিটি বাধা পার করেছি। আমি দলের মানসিকতা ও ইচ্ছাশক্তি নিয়ে খুবই গর্বিত।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি