তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
বুধবার (৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘২০১১ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, শেখ হাসিনা কোন পথে এগোচ্ছেন। তখন থেকেই আমি ব্লগ, পত্রিকার কলাম, টকশোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ বিষয়ে কথা বলেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি, জুলাই আন্দোলনের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ছিল শেখ হাসিনার বিদায় এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কারণ, তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া।’
জুলাই আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাকে সাহসী মনে করেন, কিন্তু আমি নিজেকে সেভাবে দেখি না। আন্দোলনের সময় নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তখন মনে হয়েছিল, আন্দোলন ব্যর্থ হলে কী হতে পারত, তা কল্পনা করাও কঠিন। তবে আমি দেখেছি, মানুষ ভয় পায়নি। যারা রাস্তায় নেমেছিলেন, জীবন দিয়েছেন, তারাও পিছিয়ে যাননি। এমনকি যাদের সাধারণত আন্দোলনে দেখা যায় না, তারাও রাজপথে নেমেছিলেন। মানুষের এই সম্মিলিত শক্তির কারণেই আন্দোলন সফল হয়েছে।’
নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হবে। সেই নির্বাচনে যেকোনো দল জয়ী হতে পারে, আমরাও পরাজিত হতে পারি। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এটি সম্ভব হলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে আমরা একটি ভিন্ন বাংলাদেশ দেখতে পাব।’
সময়ের আলো/এসএকে