টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ভোলা, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি ও রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
কৃষিজমি, মাছের ঘের ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে বুধবারও টানা বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, দুই নম্বর গেট, চকবাজার, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, সিএন্ডবি রোড, কাপ্তাই রাস্তার মাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিকালের দিকে কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মাত্র ৯ ঘণ্টায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে, তবে ধীরে ধীরে এর তীব্রতা কমতে পারে। সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের ষোলশহর ও জানালিহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে এবং যাত্রীদের টিকেটের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে চট্টগ্রাম সফর করেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৌশলীরা রেললাইন পরীক্ষা করে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেবেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় খাল-বিল উপচেপড়ায় পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাজালিয়া, এওচিয়া, ছদাহা, কেঁওচিয়া, খাগরিয়া, ঢেমশা, চরতী, সোনাকানিয়া, আমিলাইষ ও পশ্চিম ঢেমশাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বহু এলাকায় নৌকাই এখন একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি ওঠায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বন্যার পাশাপাশি সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। গভীর নলকূপ ও সাবমার্সিবল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র হয়েছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, মোবাইল ব্যাংকিং, ফটোকপি ও কম্পিউটার সেবাসহ বিভিন্ন খাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কৃষি খাতেও বন্যার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত না নামলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাউজানেও টানা বর্ষণ ও বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে চাল, আলু ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবানে টানা চার দিনের মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও কোথাও কোমর থেকে গলাসমান পানি জমে রয়েছে। জেলা প্রশাসন সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার এবং সাঙ্গু নদীর পানি প্রায় ১ দশমিক ১ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারী বর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন ঝিরি ও ঝর্ণার পানি বেড়ে যাওয়ায় বান্দরবান-আলীকদম এবং বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কে যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার কবাখালী, মেরুং ও বোয়ালখালী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়িঘর, আঙিনা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি এবং কৃষিপণ্য রক্ষা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বাসিন্দারা। মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের একাধিক অংশ ডুবে যাওয়ায় সাজেক ও লংগদুর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করছে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতেও টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হালদা নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলের পানি দ্রুত বাড়ছে। হারুয়ালছড়ি, ধর্মপুরসহ কয়েকটি এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী-তীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ভোলার মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, আমনের বীজতলা ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্নাবান্না, সুপেয় পানির সরবরাহ এবং যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা বৃষ্টির মধ্যে সড়ক উন্নয়নকাজ, সড়কে পানি জমে বড় বড় গর্ত এবং বিকল যানবাহনের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো যাত্রীকে দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অন্তত আরও দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদ-নদীতে হালকা বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও প্লাবিত এলাকার মানুষকে প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বাভাবিক কর্মসংস্থান কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই কয়েক দিন ধরে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও দোকানপাট খুললেও ক্রেতার অভাবে ব্যবসা প্রায় বন্ধ রয়েছে।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় গভীর নলকূপ ও পানির পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে অনেক পরিবার রান্না, পানীয় জল সংগ্রহ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজকর্মে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের চার্জ শেষ হয়ে যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে না পারায় দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি জেলায় আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত এবং মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পানি দ্রুত নেমে না গেলে রোপণ মৌসুমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অনেক কৃষক বীজতলা পুনরায় প্রস্তুত করার শঙ্কায় রয়েছেন। পাশাপাশি খামারিদেরও গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
যোগাযোগব্যবস্থাও বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের চলাচলে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী মজুদের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে কয়েক দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবারের আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়, যা গত চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বুধবারও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আরও অন্তত দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকা, নদী-তীরবর্তী অঞ্চল এবং বন্যাপ্রবণ জনপদের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন