চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ছেলবন গ্রামের নুরানীয়া জামে মসজিদ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর এটি অবহেলিত রয়েছে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তন হলেও এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত সড়ক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিনের এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বুধবার সকালে এলাকাবাসী সড়কে প্রতীকীভাবে কচু রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা এ কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রনেতা হাছান মো. জুনাইদ রাসেল বলেন, ‘সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।’
জামায়াত নেতা মাওলানা জামাল উদ্দিন জিহাদী বলেন, ‘এলাকার মানুষ কার্যত পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে পেকুয়ায় যাতায়াতের জন্য একটি সাঁকো ছিল, সেটিও ভেঙে গেছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনির বলেন, ‘বাঁশখালীর অনেক সড়কের অবস্থাই খারাপ। বিষয়টি আমাদের জানা আছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কোনো প্রকল্প নেই। যারা কচু রোপণ করে প্রতিবাদ করেছেন, তারা ভালো কাজ করেছেন। এতে বিষয়টি সবার নজরে আসবে। আপনারাও সংবাদ প্রকাশ করুন। তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে ওই সড়কের প্রাক্কলন তৈরির নির্দেশ আসতে পারে। নতুন প্রকল্প এলে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাস্তার নামটি আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে রাখবেন।’
প্রসঙ্গত, সড়কটি ছনুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব রেজাউল হক চৌধুরীর নিজ ওয়ার্ডে অবস্থিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি প্রায় ১৪ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি।
সময়েল আলো/এসএকে