বিদায়ের রঙেও ছিল বিজয়ের দীপ্তি

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

সব পরাজয় পরাজয়ের গল্প নয়। কিছু বিদায় ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে জয়ের মতো করেই। শেষ বাঁশি বাজে, স্কোরবোর্ডে হার লেখা

2026-07-10T04:40:39+00:00
2026-07-10T04:40:39+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
খেলা
বিশ্বকাপে আফ্রিকা
বিদায়ের রঙেও ছিল বিজয়ের দীপ্তি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪০ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
সব পরাজয় পরাজয়ের গল্প নয়। কিছু বিদায় ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে জয়ের মতো করেই। শেষ বাঁশি বাজে, স্কোরবোর্ডে হার লেখা থাকে কিন্তু মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় বিজয়ীর চেয়েও বেশি সম্মান কুড়িয়ে নেয় পরাজিতরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার গল্প ঠিক তেমনই এক উপাখ্যান। ট্রফির পথে একে একে থেমে গেছে তাদের যাত্রা, শেষ আটে জায়গা করে নিতে পেরেছে শুধু মরক্কো। তবু এই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই আফ্রিকা জিতে নিয়েছে সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। বিশ্বফুটবলের শক্তির মানচিত্রে তারা আর কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, তারা এখন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।

৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশ নেয় ১০টি দল। তিউনিসিয়া ছাড়া বাকি ৯ দলই গ্রুপপর্ব পেরিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয়, যা আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। সংখ্যার চেয়েও বড় ছিল তাদের পারফরম্যান্স। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিদের জন্য প্রতিটি আফ্রিকান দল হয়ে উঠেছিল কঠিন পরীক্ষা। নকআউট পর্বে আফ্রিকার অধিকাংশ বিদায় এসেছে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায়। সবচেয়ে হৃদয়ভাঙা গল্প মিসরের। 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হারে তারা। লিওনেল মেসির দলকে ম্যাচজুড়ে কাঁপিয়ে দেওয়া সেই লড়াই প্রমাণ করে দেয়, ব্যবধানটা আর আগের মতো নেই।

একইভাবে বিস্ময় ছড়ানো কেপভার্দেও আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত আটকে রেখেছিল। ২-২ সমতায় থাকা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে জয় পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভাগ্য একটু সহায় হলে হয়তো বিশ্বকাপ আরও একটি রূপকথার সাক্ষী হতো। সেনেগালের বিদায় ছিল আরও নির্মম।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও শেষ দিকে রোমেলু লুকাকুর আগমনে বদলে যায় দৃশ্যপট। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়াম, আর চোখভরা আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নেয় সেনেগাল। দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরিকোস্ট ও ডিআর কঙ্গোর গল্পও প্রায় একই। প্রতিটি ম্যাচ যেন একই শিক্ষা দিয়েছে দারুণ ফুটবল খেলেও শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে না পারার মূল্য চুকিয়েছে আফ্রিকার দলগুলো। তবু এই বিদায় ব্যর্থতার প্রতীক নয় বরং এটি একটি বদলে যাওয়া মহাদেশের ঘোষণা।

একসময় আফ্রিকার ফুটবল মানেই ছিল গতি আর শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা। এখন সেই পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৌশল, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং আধুনিক ফুটবলের পরিণত রূপ। তারা আর প্রতিপক্ষের নাম দেখে ভয় পায় না; চোখে চোখ রেখে লড়াই করে। এই বিশ্বকাপে সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রতীক মরক্কো। 

হয়তো এবারও ট্রফি আফ্রিকার হাতে উঠবে না। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রমাণ করে দিয়েছে, ভবিষ্যতের কোনো এক বিশ্বকাপে সেই স্বপ্ন আর অবাস্তব নয়। কারণ আফ্রিকা এবার শুধু ম্যাচ খেলেনি, বদলে দিয়েছে বিশ্বফুটবলের ধারণা। তাই এই বিদায়েও হার নেই; আছে আগামী দিনের বিশ্বজয়ের এক উজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   বিদায়  বিজয়  আফ্রিকা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: