পাহাড়ি ঢলের তোড়ে চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন ১০০ মিটার সড়ক

শেরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজিরখামার সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধ্বসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে

2026-07-10T18:39:44+00:00
2026-07-10T18:39:44+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়ক
পাহাড়ি ঢলের তোড়ে চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন ১০০ মিটার সড়ক
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজিরখামার সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধ্বসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে সড়কের অবশিষ্ট সরু অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শুধু ছোট যানবাহন চলাচল করছে। এতে ওই সড়কে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে পরবর্তী পাহাড়ি ঢলে সড়কটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতিও আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজিরখামার সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পানির তোড়ে সড়কের একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে ধ্বস শুরু হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। রাত থেকে পানি কমতে শুরু করলে শুক্রবার সকালে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে চেল্লাখালী নদীর ভাঙন থেকে সড়কটি রক্ষায় প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় সেখানে সিসি ব্লকও স্থাপন করা হয়। তবে চলতি বর্ষার জুন মাসের পাহাড়ি ঢলে ওই অংশের প্যালাসাইডিং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এবারের ঢলে প্যালাসাইডিংয়ের পাশাপাশি প্রায় ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কের অন্তত ১২ ফুট অংশ ধ্বসে যায়। বর্তমানে মাত্র ৬ থেকে ৭ ফুট প্রশস্ত অংশ দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করছে, যা যেকোনো সময় ধ্বসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক, নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে জানায়। শুক্রবার আপদকালীন সংস্কারের জন্য কিছু বস্তা পাঠানো হলেও বালুর ব্যবস্থা করা হয়নি বলে জানা গেছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, নদীঘেঁষা এ সড়কটি এলজিইডির। এর আগেও তারাই সেখানে কাজ করেছে। একই স্থানে দুটি দফতর একসঙ্গে কাজ করতে পারে না। তবে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু বস্তা পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত মাসের পাহাড়ি ঢলের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সমস্যা চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, নদীর বিপরীত পাশে থাকা দুটি বক্স কালভার্ট মাটি ফেলে বন্ধ করে দেওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া প্যালাসাইডিংয়ের আশপাশে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণেও সড়ক ও প্রতিরক্ষা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, শনিবার সংশ্লিষ্ট দুই দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি চলাচলের জন্য বক্স কালভার্টগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সড়ক সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ভাঙনকবলিত অংশটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় পাহাড়ি ঢল নামলেই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় এবং বিপরীত দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিবছরই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি দ্রুত নদীতীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, তা না হলে চলতি বর্ষার পরবর্তী ঢলেই পুরো সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়বে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   পাহাড়  ঢল  শেরপুর  নালিতাবাড়ী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: