টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সাঙ্গু নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চন্দনাইশের অধিকাংশ গ্রামের বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাজার ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোমর সমান, আবার কোথাও বুকসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের সংকট, বন্ধ রয়েছে রান্নাবান্নাও।
বন্যার পানি চন্দনাইশের বড়পাড়া ও পাঠানিপুল ব্রিজ এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই রুটে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, রমজানের দোকান এলাকায় মহাসড়কের ওপর দিয়ে সীমিত পরিসরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পাহাড়ি ঢলে চন্দনাইশের বিখ্যাত সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবজি চাষি দেলোয়ার হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তার ৬০ শতক জমির বরবটি ও করলা খেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। তার মতো উপজেলার হাজারো চাষির বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন পানির নিচে, যার ফলে কৃষকেরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান জানান, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর রাখছে। কোনো এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিলে দ্রুত সেখানে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই