টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জেলার কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মনু নদীর রাজনগরের দুটি এবং কুলাউড়ার একটি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে হাকালুকি হাওর, কাউয়াদিঘী হাওর এবং হাইল হাওরে ব্যাপক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হাইল হাওরের পানি আংশিকভাবে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে হরিপাশা, উজিরপুর, কান্দিরকুল, একামধু, গণেশপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রাজনগরের ভাঙ্গারহাট এলাকায় নদীর পানি বাঁধের সমতলে পৌঁছে গেছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
অবিরাম বর্ষণের কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর-ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কের নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়ি এলাকায় একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বাধার কারণে ওই অংশে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা সম্ভব হয়নি।
সময়ের আলো/জোই