দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় একটি বাড়ির আঙিনায় মাটির নিচ থেকে সোয়া ২ কোটি টাকা মূল্যের প্রাচীন বেলেপাথর উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হেলাল উদ্দিন নামের এক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) হাবিলদার আবদুল বারী বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে (পুরাকীর্তি) একটি মামলা করেছেন।
এর আগে, গত ৮ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর মুকুন্দপুর ইউনিয়নের পারভবানীপুর বালুপাড়া গ্রামের কৃষক মো. কামরুজ্জামান ওরফে জামানের বাড়ি থেকে এই বেলেপাথরটি উদ্ধার করা হয়।
আটক হেলাল উদ্দিন একই ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে এবং পেশায় একজন হোটেল ব্যবসায়ী। ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক কামরুজ্জামান পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে পারভবানীপুর গ্রামের কামরুজ্জামানের বাড়ির আঙিনায় একটি মূল্যবান প্রাচীন বেলেপাথর মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদ পায় বিজিবি। এই তথ্যের ভিত্তিতে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের হাবিলদার আবদুল বারীর নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক কামরুজ্জামান পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে হেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আঙিনার মাটি খুঁড়ে পাথরটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল স্বীকার করেন যে, চড়া মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাথরটি সেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত ৬-৭ বছর ধরে ওই বাড়িতে বিভিন্ন অপরিচিত লোকের আনাগোনা ছিল।
উদ্ধারকৃত কালো রঙের বেলেপাথরটি মূলত একটি প্রাচীন ডোর ফ্রেম বা দরজার কাঠামো। এর দৈর্ঘ্য ৪৭ ইঞ্চি এবং প্রস্থ সাড়ে ১২ ইঞ্চি। পাথরটির দুই পাশ সমতল হলেও অপর দুই পাশে লতাপাতার মতো চমৎকার স্পাইরাল ও ব্লক নকশা খোদাই করা রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যের কারণে এর আনুমানিক বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, বিজিবির করা মামলায় আটক হেলাল উদ্দিন ও জব্দকৃত পাথরটি আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। উপজেলার দাউদপুর শাহপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই জানান, প্রায় ৭ বছর আগে তাদের মসজিদের বারান্দার সিঁড়ি থেকে ঠিক এই ধরনেরই একটি মূল্যবান পাথর রাতে চুরি হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া পাথরটি সেই চুরি যাওয়া পাথর কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই