সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় লড়ছে গ্রামবাসী

দিনাজপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নেরসরকারি সম্পদ ও শত বছরের পুরোনো কবরস্থান রক্ষায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন এক আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন

2026-07-10T11:15:51+00:00
2026-07-10T11:30:56+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় লড়ছে গ্রামবাসী
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৫ এএম  আপডেট: ১০.০৭.২০২৬ ১১:৩০ এএম
ছবি : সময়ের আলো
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের সরকারি সম্পদ ও শত বছরের পুরোনো কবরস্থান রক্ষায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন এক আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দুই গ্রামের মানুষ। উপজেলার বড় বাউল ও গালতৈড় গ্রামবাসীর এই যৌথ প্রতিরোধ স্থানীয়ভাবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি বেদখল হতে চললেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বড় বাউল মৌজায় ‘ছোট জিনাহার’ নামে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর একটি ঐতিহাসিক পুকুর ও তার চারপাশে বিশাল একটি কবরস্থান অবস্থিত। সিএস খতিয়ান (২৯ কোর্টস অব ওয়ার্ড) অনুযায়ী, তৎকালীন জমিদার শরবিন্দু নারায়ণ রায় ও পুনেন্দু নারায়ণ রায়ের আমল থেকেই এই জমিটি সর্বসাধারণের ব্যবহার্য হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ ও অধিগ্রহণ আইনের আওতায় এটি চূড়ান্তভাবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়। যুগ যুগ ধরে এই জমিতে দুই গ্রামের হাজার হাজার মৃত মানুষের দাফন-কাফন সম্পন্ন হচ্ছে এবং পুকুরটি সাধারণ মানুষের চাষাবাদ ও গবাদি পশুর গোসলের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


অভিযোগ উঠেছে, চিরিরবন্দর ও আউলিয়াপুকুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসএ-১ খতিয়ানের মূল নথিপত্র গায়েব করে ফেলা হয়। এরপর সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তৈয়বা খাতুন নামে এক নারীর নামে ভুয়া ‘এসএ-২৭ খতিয়ান’ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভুয়া কাগজপত্রের সূত্র ধরে বড় বাউল গ্রামের বাসিন্দা ও চিহ্নিত ভূমিদস্যু মো. ময়েন উদ্দীন পুকুরটি নিজের নামে কবলা দলিল করে নেন এবং তা দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। স্থানীয়দের দাবি, এই ময়েন উদ্দীন ইতিপূর্বে রামপুর মৌজায় ‘বড় জিনাহার’ নামের আরও প্রায় ৩০ একর সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, যার ফলে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

সরকারি সম্পদ রক্ষায় সরকারকে সহযোগিতা করতে গত ২০০৫ সালে ‘ছোট জিনাহার পুকুর ও কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি’র ব্যানারে যৌথ জেলা জজ আদালতে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা (নং-২৭/২০০৫) দায়ের করেন গ্রামবাসী। বর্তমানে মামলাটি সহকারী সিভিল জজ আদালত, চিরিরবন্দরে (মামলা নং-২২৯/২১, অন্য ৫৯৩/২৬) বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার পর আদালতের নির্দেশে চিরিরবন্দর উপজেলা ভূমি অফিস একটি তদন্ত পরিচালনা করে। ২০০৯ সালের ১১ জুনের এক পরিপত্রে (স্মারক নং: ভূমি অফিস (ছয়) ০১/এস এফ/০৯ চিরির/২৯৭) দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও জিপি যৌথ স্বাক্ষরিত রিপোর্টে উল্লেখ করেন যে, কথিত ‘২৭ খতিয়ানটি’ সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট। রিপোর্টটি সরকারি কৌশলীর মাধ্যমে আদালতেও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত এই সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আদালতে কোনো সরকারি আইনজীবী (কৌশলী) নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

কবরস্থান রক্ষা কমিটির পক্ষে মো. মকবুল হোসেন জানান, কবরস্থান ও পুকুরটি যুগ যুগ ধরে সর্বসাধারণ ব্যবহার করে আসছে। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই, অনতিবিলম্বে এই ভুয়া ২৭নং খতিয়ান বাতিল করে ঐতিহাসিক কবরস্থানটি রক্ষা করা হোক। 

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, রামপুর মৌজার ‘বড় জিনাহার’ পুকুরটির মতো এই সম্পত্তিটিও যদি ভূমিদস্যুদের স্থায়ী দখলে চলে যায়, তবে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। এই নজিরবিহীন জালিয়াতি রুখতে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তারা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   সরকারি সম্পত্তি  রক্ষা  ভূমিদস্যু  গ্রামবাসী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: