সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে পুনরায় তার পূর্বের পদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্সে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) মাজারের দানবাক্সগুলো খোলার পর টাকা গণনার সময় এমন তিনটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মাজারের তিনটি ডেগ ও ছোট-বড় পাঁচটি দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। বেলা ২টার দিকে গণনাকারীদের হাতে এই তিনটি চিরকুট আসে। যার মধ্যে দুটি চিরকুটে সাবেক ডিসিকে ফেরানোর আকুতি এবং অন্যটিতে দেশের অপরাধ দমনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা তদারকি কমিটির সদস্যরা চিরকুট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে আবু জলিল হাবিব নামের এক ব্যক্তি মাজারের একজন খাদেমের সহকারী খোকনকে ‘বাটপার’ উল্লেখ করে তার বিচার দাবি করেছেন। ওই চিঠির শেষ লাইনে তিনি ডিসি সারওয়ারকে সিলেটে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।
চিঠিতে খোকনের বিরুদ্ধে মাজারের হাঁস, মুরগি ও গবাদিপশু বেচাকেনায় অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
অপর একটি চিরকুটে দরগাহ মহল্লার এক বাসিন্দা নিজেকে শুভাকাঙ্ক্ষী পরিচয় দিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার সাহেবকে যে-কোনো উপায়ে পুনরায় সিলেটে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক।’
এদিকে মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ নামের আরেক ব্যক্তির লেখা তৃতীয় চিরকুটটিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হয়।
তিনি লিখেছেন, ‘ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আমরা দৃশ্যমান বিচার দেখতে পাচ্ছি না।’
চিঠিতে তিনি রামিসা, আছিয়া ও হাদী হত্যার আসামিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, তৎকালীন ডিসি সারওয়ার আলম মাজারের দানের টাকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজারের ৭০০ বছরের প্রথা ভেঙে দানবাক্স সিলগালা করেছিলেন। এই পদক্ষেপের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হলে গত ২১ জুন তাকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
প্রত্যাহারের পরদিন ২২ জুন তিনি নিজেই সিলগালা করা দানবাক্সগুলো খোলেন, যেখান থেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল।
সময়ের আলো/জেডি