একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও পারিবারিক কলহের জেরে বাবা-মার হাতে খুন হয়েছে মেয়ে। খুলনা নগরীর নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
এর আগে, শুক্রবার আরিফা ইয়াসমিন স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
কেএমপি কার্যালয়ে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সময়ের আলো
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
পুলিশি তদন্তের ২৪ ঘণ্টার ভেতর নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত নির্জনা সোনাডাঙ্গা থানাধীন বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং আরিফা ইয়াসমিন সিমা ও মো. আলিম হোসেন আকাশ দম্পতির কন্যা।
ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করতে খুলনা সদর থানা পুলিশের একটি আভিযানিক টিম ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জুলাই আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে (৩৫) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তার মেয়ে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে, যার ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। আর এই পারিবারিক কলহের কারণেই নিজ কন্যা নির্জনা এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামি মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের দিকনিদের্শনায়, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (পিপিএম-সেবা) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম, খুলনা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম এবং খুলনাস্থ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।