আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে দেশটিতে তৃতীয় দফায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়। রোববার (১২ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে ট্রাম্প প্রশাসন আগের যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজটি ছিল সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এই ঘটনার ঠিক এক ঘণ্টা পর, শনিবার (১১ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী।
এর আগে ইরান দাবি করেছিল, অননুমোদিত পথে চলাচলকারী একটি জাহাজকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও সেটি পথ পরিবর্তন না করায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় আইআরজিসি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, মার্কিন পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুদের নতুন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
হঠাৎ শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও হোয়াইট হাউস আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দিলেও জানিয়েছেন যে, কূটনীতির সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
এই হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/জেডি