জনপ্রিয় মার্কিন ইউটিউবার আইশোস্পিড (স্পিড) বিশ্বকাপ জুড়ে আছেন আলোচনায়। নকআউট পর্বে তিনি যে দলকে সমর্থন করেছেন সে দলই হেরে বিদায় নিয়েছে। আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচেও গ্যালারিতে ছিলেন স্পিড। তবে ম্যাচ শেষে হতাশ হয়েই স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়েছে তাকে।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ দেখতে গিয়ে স্পিডের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি।
অনেকে মনে করেছিলেন, আর্জেন্টিনার জন্য এটি অশনি সংকেত হতে পারে। কিন্তু সেই ধারণা এদিন সত্যি হয়নি। ৩-১ গোলের জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকেই বিভিন্ন ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা গেছে স্পিডকে। তার উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের কুসংস্কারও। কারণ, তিনি যে দলের জার্সি পরে মাঠে যান, সেই দলই নাকি শেষ পর্যন্ত হেরে বসে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ ষোলো থেকে তিনি এক ভিন্ন কৌশল নেন।
একসঙ্গে দুই দলের জার্সি পরে মাঠে যাওয়া শুরু করেন, যাতে নির্দিষ্ট কোনো দলের সমর্থক হিসেবে দেখা না যায়। ইংল্যান্ড-নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের সময় কানসাস সিটির ফ্যান ফেস্টেও তাকে দুই দলের জার্সি পরেই দেখা গেছে।
তবে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে সেই কৌশল থেকে সরে এসে কেবল আর্জেন্টিনার জার্সিই পরেন স্পিড। ম্যাচ চলাকালে তার আচরণও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। আর্জেন্টিনা গোল করলেই স্পষ্ট হতাশা ফুটে উঠছিল তার মুখে। নবম মিনিটে আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ক্যামেরার সামনে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, কী হচ্ছে? কিছুই তো কাজ করছে না। এখন আমাকে কী করতে হবে?’
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা সুইজারল্যান্ড ৬৭তম মিনিটে ডান এনদয়ের গোলে সমতায় ফিরলে আবার উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন স্পিড। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোয়ও তাকে বেশ আনন্দিত দেখা যায়। কিন্তু ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেস আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে দিলে তার মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আলভারেজের গোলের পর গভীর হতাশায় ডুবে যান স্পিড। পরে লাউতারো মার্তিনেস তৃতীয় গোল করলে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যান স্পিড।
সময়ের আলো/আআ