হাতিয়া ডুবল ২৫ হাজার হেক্টর জমি, ২০ কোটির ক্ষতির আশঙ্কা

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়

2026-07-13T18:44:42+00:00
2026-07-13T18:44:42+00:00
 
  সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
হাতিয়া ডুবল ২৫ হাজার হেক্টর জমি, ২০ কোটির ক্ষতির আশঙ্কা
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম 
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় হাতিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়। ছবি : সময়ের আলো
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আউশ ধান, আমন বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফল, মরিচ ও পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন প্রায় ৮০ হাজার কৃষক। প্রাথমিকভাবে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকা থেকে এখনো পানি নামেনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী— ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ পানির নিচে রয়েছে।


হাতিয়ার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার অধিকাংশ জমিতে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় খেতের ধানগাছ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে সবজির খেতগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফলে লোকসানের মুখে তারা এখন দিশেহারা।


চরকিং ইউনিয়নের কৃষক মোজাহের উদ্দিন নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এবার প্রায় ২ একর জমিতে আউশ ধান চাষ করেছিলাম। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। ধানগাছগুলো হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক লাখ টাকা খাটুনি ও খরচ করেছি, এখন সেই টাকা কীভাবে উঠবে বুঝতে পারছি না।


চর ঈশ্বর ইউনিয়নের সবজি চাষি মো. ইব্রাহিম জানান, তার বেগুন, ঢ্যাঁড়স ও মরিচের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বাজারে বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ করা তার পক্ষে অসম্ভব।

এদিকে সোনাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমের আমন চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুত করতে দ্বিগুণ খরচ হবে।

পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আহসানসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতিয়ায় প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়া, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপরিকল্পিত স্লুইস গেট ও বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করায় কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, অতিবৃষ্টিতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। সরকারি বরাদ্দ এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষকরা এই মহাবিপদ কাটিয়ে উঠতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি প্রণোদনা, বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা হাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত, স্থায়ী ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানান।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   হাতিয়া  ডুবল  জমি  ক্ষতি  আশঙ্কা  হাতিয়া  নোয়াখালী  ভারী বর্ষণ  জোয়ারের পানি  জলাবদ্ধতা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: