বাগেরহাটে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ৫ বিচারপ্রার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে আদালতের তিনতলা ভবনের নিচতলার বারান্দায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর আদালত চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (হাকিমি আদালত) কচুয়া এজলাসের সামনের বারান্দায় মামলার হাজিরা ও শুনানির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেশ কয়েকজন বিচারপ্রার্থী। এ সময় হঠাৎ করেই ছাদের একটি বড় অংশের পলেস্তারা খসে তাদের ওপর পড়ে। এতে ধুলোবালি ও ইটের টুকরোর আঘাতে পাঁচজন রক্তাক্ত জখম হন।
আহতরা হলেন, সুমন দাস (৪৫), হৃদয় হাওলাদার (২৬), হাবিবুল্লাহ শেখ (২৮), মো. ফিরোজ শেখ (৬৫), মোতালেব হোসেন (৪৮)।
উপস্থিত জনতা ও আইনজীবীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকবৃন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিচারপ্রার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
বাগেরহাট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ আদনান হোসেন জানান, আহতদের শরীরে ও মাথায় পলেস্তারার ভারী আঘাত লেগেছে। তবে সৌভাগ্যবশত কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আদালত ভবনের এই চরম দুরবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা।
বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন বলেন, আদালতের এই তিনতলা মূল ভবনটি বেশ পুরোনো। ভবনের বিভিন্ন দেওয়ালে ও ছাদে ইতোমধ্যে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। আজ বারান্দার ছাদ ধসে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটল। যে-কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জরাজীর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার করতে আমরা সরকারের গণপূর্ত অধিফতরকে লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছি।
নিয়মিত যাতায়াতকারী আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এই আদালত ভবনটি এখন রীতিমতো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন যেখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।
সময়ের আলো/জোই