মৌলভীবাজারে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও কমেনি খামারি ও কৃষকদের দুর্ভোগ। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের তীব্র সংকট। জেলার হাকালুকি, কাউয়াডিঘী ও হাইল হাওর-সংলগ্ন এলাকাসহ বড়লেখা, জুড়ি, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার প্রায় ২৮টি ইউনিয়নের হাজারো কৃষক তাদের গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
চলমান বন্যায় বিস্তীর্ণ চারণভূমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের ঘরে সংরক্ষিত ধানের খড় ও অন্যান্য গোখাদ্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে খাদ্যের অভাবে অনেক গবাদিপশু দিন দিন দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে অনেক মালিক গবাদিপশুগুলোকে উঁচু জায়গা কিংবা সড়কের পাশে বেঁধে রাখছেন। কেউ কেউ ধানের কুঁড়া ও সামান্য পরিমাণ শুকনা খড় খাইয়ে কোনোভাবে পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদ-নদীর পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও মাঠের ঘাস এখনও জেগে ওঠেনি। কয়েকদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় চারণভূমির ঘাস পচে নষ্ট হয়ে গেছে। চারপাশের দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের কারণে অনেক গবাদিপশু স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছে না, যার ফলে পশুগুলোর স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশুগুলো একই স্থানে গাদাগাদি করে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। চারণভূমি না থাকায় বাইরে পশু চরানোর কোনো সুযোগ নেই। এর ওপর আবার বাজারে গোখাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায়, টাকা দিয়েও পর্যাপ্ত খাদ্য কিনে খাওয়ানো অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের কৃষক বেলাল মিয়া নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বন্যায় আমাদের পুরো এলাকা ডুবে গিয়েছিল। চার-পাঁচ দিন ধরে গরুগুলো ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না। আমার আটটি গরুর মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চারদিকে খুঁজেও কোথাও গোখাদ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন শুরু করেছেন এবং বন্যায় গবাদিপশুর সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর মালিকরাও চরম খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা জেলার সবকটি উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের কাজ করছি। ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খামারিদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও জরুরি ওষুধ প্রদান করা হবে।
সময়ের আলো/জোই