বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলার লড়াই শুরু হতে তখনও চার বছর বাকি। কিন্তু তার আগেই শুরু হয়ে গেছে ফাইনাল আয়োজনের লড়াই। ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ কোথায় হবে? স্পেনের ঐতিহাসিক বার্নাব্যুতে, নাকি মরক্কোর নির্মাণাধীন হাসান-২ স্টেডিয়ামে? এই প্রশ্ন ঘিরে ফুটবলের সীমানা পেরিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে রাজনীতি, কূটনীতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম।
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। এর ফলে বালোগুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারেন। অবশ্য দাবি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। কারণ বালোগুনের ঘটনায় ট্রাম্প সরাসরি ইনফান্তিনোকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে অনুরোধ করেছিলেন।
শতবর্ষের বিশ্বকাপ হিসেবে ২০৩০ সালের আসর অনুষ্ঠিত হবে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে। উদ্বোধনী ম্যাচ হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এরপর টুর্নামেন্টের মূল অংশ অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে। তবে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ ফাইনাল। আয়োজনের দৌড়ে এখন মুখোমুখি স্পেন ও মরক্কো।
দীর্ঘদিন ধরেই স্পেনের নবায়ন করা বার্নাব্যুকে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কোও জোরালোভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজেক্টিভ জানিয়েছে, মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক প্রচার শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আমরানি এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা সেই প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়ার বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থনও মরক্কোর পক্ষে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এবং স্পেনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ফাইনাল আয়োজনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।
স্প্যানিশ রেডিও অনুষ্ঠান এল পার্তিদাসো দে কোপে এমনও দাবি করেছে যে, স্পেনের ফুটবল প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ), ফিফা কিংবা হোয়াইট হাউস কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারি জোনাস এরিকসনের মতে, ফুটবলের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় উয়েফার আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, ফিফা ও উয়েফার মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে, যা বিশ্বফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তা নয়।
সব মিলিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল এখনও অনেক দূরের পথ। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আয়োজকত্ব, কূটনীতি ও ক্ষমতার রাজনীতি ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা আগামী কয়েক বছর বিশ্বফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকতেই পারে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি